kalerkantho


আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের নতুন সদস্যদের শপথ

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি   

১৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:৪২



আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের নতুন সদস্যদের শপথ

সকল নাটকীয়তা আর জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শপথ নিয়েছেন আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কার্যকরী কমিটি সদস্যরা। একই সঙ্গে নতুন কমিটির কাছে দায়িত্বও হস্তান্তর করা হয়। গত শনিবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসে প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে শপথ গ্রহণ ও দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। তবে এ অনুষ্ঠানে বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকসহ বেশ কয়েজন সদস্য অনুপস্থিত ছিলেন।

ঐদিন সন্ধ্যায় আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কার্যকরী কমিটি সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক কাজী শামসুল হক। শপথ গ্রহনের পর পুরানো কমিটির অধিকাংশ সদস্যদের উপস্থিতিতে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এ সময় নির্বাচন কমিশনে সদস্যবৃন্দসহ বিদায়ী ও নতুন কমিটির সাধারণ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রেসক্লাবের বিদায়ী কার্যনির্বাহী কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদায়ী কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য লাবলু আনসার। সভা সঞ্চালনা করেন যুগ্ম সম্পাদক শহীদুল ইসলাম। কার্যনির্বাহী কমিটির নয়জন সদস্যের মধ্যে পাঁচজন সভায় উপস্থিত ছিলেন।

 

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বাংলাদেশী আমেরিকান সাংবাদিকদের সংগঠন আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের আভ্যন্তরিণ বিষয় নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে সংগঠনের কর্মকর্তাদের মধ্যে টানাপোড়েন চলে আসছিল। অনিয়ম, অপ্রীতিকর ঘটনা আর অন্তর্দ্বন্দ্বের ফলে ফাটল দেখা দেয় নিউ ইয়র্কের আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাব। এসব ঘটনা চরম আকার ধারণ করায় এক পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠনকল্পে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিলো।

আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের নির্বাচন ও নির্বাচন কমিশনকে চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচন বয়কট করে পালটা কমিটি ঘোষণা করেন সাবেক কমিটির কর্মকর্তাগণ। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর বর্তমান সভাপতি নাজমুল আহসান ও সাধারণ সম্পাদক দর্পণ কবির তাদের স্ব স্ব ফেসবুকে নতুন কমিটিকে উদ্দেশ্য করে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন: ফেসবুক থেকে তাদের এসব প্রতিক্রিয়া নিচে তুলে ধরা হলো-  

নাজমুল আহসান: নিউইয়র্কে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে 'পেশাদার সাংবাদিক' কত? 
আমাকে প্রায়ই এ প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। আমি শুধু বলি যারা তাদের 'আসল পেশা'র লজ্জা লুকিয়ে রাখতে চায় তাদের বাদ দিলে ২৫/৩০ জনের বেশি হবেনা যদি পেশাদার বলতে যারা এ পেশায় জীবিকা নির্ভর করে ধরা হয়। কমুনিটির কিছু অনুষ্ঠানে গেলে মাঝে মাঝে শুনতে হয় আমাদের মধ্যে উপস্থিত আছেন সাংবাদিক 'অমুক', সাংবাদিক 'তমুক' ইত্যাদি। এদের বেশির ভাগই সাংবাদিক নয়. অনুষ্ঠানের আয়োজকদের কিংবা সঞ্চালকের পরিচিত।  

দর্শকদের সামনে সাংবাদিক হিসাবে পরিচিত হতে অনেকসময় তদবির পর্যন্ত করে শুনেছি। কিন্তু কেন?
একটাই কারণ সত্যিকারের যে পেশায় আছেন সে পেশার পরিচয় দিতে সামাজিক ভাবে লজ্জা পান। এরাই আবার প্রেস ক্লাবের পদ দখলে, ক্লাবের ভাঙাভাঙিতে সদা সক্রিয়-ভীষণ মাতব্বর এখন শুনছি প্রেস ক্লাবের মেম্বারদের তালিকায় হাইস্কুল ড্রপআউট, ফুলটাইম দোকানের কর্মচারী, সপ্তাহে ৫/৬ দিন রেস্টুরেন্টের কর্মচারী মাত্র একদিন সাংবাদিক সাজা, ভিডিও/সাউন্ড সিস্টেমের কন্ট্রাক্টর, স্কুল শিক্ষকও ঢুকে পড়েছেন। এদের প্রেসক্লাবে পদ পেতে হবে-প্রয়োজনে ক্লাব ভাঙতে হবে। ঐক্যবদ্দ থাকলে মাত্র ৯টি পদ-ভাঙলে ১৮ টি পদ। কত বিশাল সুযোগ ভাবা যায়? এখন সময় এসেছে সাংবাদিকতার আইডেন্টিটি ডাকাতদের বাদ দিয়ে সত্যিকার ফুলটাইম, পেশাদার সাংবাদিকদের নিয়ে আসল প্রেস ক্লাব গঠন করে কমুনিটির প্রকৃত সাংবাদিকদের মর্যাদা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা।

দর্পণ কবির: তিনি যুদ্ধাপরাধী, তাই..!

আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের কমিটি হয়েছে পাল্টা-পাল্টি দুটি। একটি কমিটি গঠন করার ক্ষেত্রে ভ্রষ্ট নীতি অনুসরণ করেছেন একজন যুদ্ধাপরাধী। তার নাম কাজী শামসুল হক। তার গঠিত কমিটির সভাপতি হয়েছেন লাবলু আনসার। তিনি মুক্তিযোদ্ধা (৯ নম্বর সেক্টরে কনিষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা বলে তিনি দাবি করেন)। আরেকজন আওয়ামী লীগের কট্টর সমর্থক এবং প্রগতিশীল চেতনার ধারক কানু দত্ত। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী শামসুল হক যুদ্ধাপরাধী হওয়ায় তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেননি তারা। যুদ্ধাপরাধীর সঙ্গে ছবি উঠে যাবে এই আশঙ্কা। ছবিতে লাবলু আনসার ও কানু দত্ত নেই। তাদের নামে মনোনয়নপত্র জমা পড়ে এদিন। প্রশ্ন হচ্ছে-যুদ্ধাপরাধীর স্বাক্ষরকৃত মনোনয়নপত্রে তো তাদের স্বাক্ষর রয়েছে। এটা কি তাদের চেতনায় আঘাত করেনি? চ্যানেল আইয়ের কার্যালয়ে এই যুদ্ধাপরাধী খুব আড্ডা জমান। সভা করেন। এটাও ভাববার বিষয়।


মন্তব্য