kalerkantho


ভুটানে দেখা পেলাম সাদামাটা বার্নিকাটের

মাহতাব হোসেন, ফুয়েন্টশোলিং থেকে   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:২০



ভুটানে দেখা পেলাম সাদামাটা বার্নিকাটের

ভুটানের পূর্বের রাজধানীর নাম পুনাখা। পুনাখা নানা কারণে বিখ্যাত। তার মধ্যে অন্যতম কারণ সৌন্দর্য। পুরো ভুটানেরই অবশ্য সৌন্দর্যের শেষ নেই। তারপরেও পুনাখায় রয়েছে ঐতিহাসিক নানা বিষয়। এর মধ্যে অন্যতম মঙদের আশ্রম, এডমিনিস্ট্রেটিভ বিল্ডিং আর নদী মো চু।

যাইহোক পুনাখা এমন একটি জায়গা যেখানে গেলে মন ভালো হয়ে যাবে নিশ্চিত। ভুটান এসে পুনাখা যাবো না,  তা কি করে হয়? আগের দিন ভুটানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জিষ্ণু রায় চৌধুরীর সাথে দেখা করলাম। তিনিই জানালেন পুনাখা যাওয়ার পথে আরেকটি জায়গা যেন দেখে যাই। কী সেই জায়গা? জিষ্ণু রায় চৌধুরী আমাদের চিন্তিত হতে নিষেধ করলেন, কেননা পুনাখা যাওয়ার পথেই সেই জায়গার দেখা মিলবে। জায়গার নাম দোচালা পাস।

দোচালা পাস হচ্ছে ভুটানের সবচেয়ে উঁচু জায়গা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪ হাজার ৭০০ ফুট উঁচুতে এটা। এখান থেকে হিমালয়ের ৭টি শৃঙ্গ দেখা যায়। গতকাল (মঙ্গলবার) আমরা পুনাখা যাওয়ার পথে স্বাভাবিকভাবেই দোচালা পাসে নেমে পড়লাম। দারুণ জায়গা। পুরো এলাকা যেন মেঘে ঢাকা। তাহলে কি হিমালয় চূড়াগুলো দেখা হবে না? একটা রেস্টুরেন্ট রয়েছে। আমি সেদিকেই হাঁটতে লাগলাম।

কিছুদূর এগোতেই একজনকে চেনা চেনা মনে হলো। আমি খপ করে হাত ধরে ফেললাম। বললাম-
-আর ইউ বার্নিকাট
-ইয়েস
মার্সিয়া বার্নিকাটকে না চেনার কোনো কারণ নেই। ক্রিকেটপ্রীতির কারণে বাংলাদেশে মার্কিন এই রাষ্ট্রদূত বেশ পপুলার। আমি বললাম
-আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি...

বার্নিকাট এবার আশ্চর্য হয়ে বললেন
-সিরিয়াস?
-ইয়েস

বার্নিকাটের সাথে ঢাকাতেও দেখা হয়েছিল। তেমন কথা হয়নি। কিন্তু দোচালা পাসে যে বার্নিকাটের সাথে দেখা হলো তিনি একেবারেই ভিন্ন। খুব সাদামাটাভাবেই একাই হেঁটে যাচ্ছিলেন। কোনো প্রোটোকল নেই, কিচ্ছু নেই। বরঞ্চ তিনি যে বিশেষ একজন মানুষ সেটা বোঝার কোনো উপায় নেই।

কিছুক্ষণ আমাদের সাথে কথা বললেন। ছবি তুললেন। তারপর তার একজন বন্ধু অপেক্ষা করছে বলে চলে গেলেন। মনেই হলো না যে আমাদের সাথে দারুণ কয়েক মিনিট কাটিয়ে গেলেন আমাদের দেশে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশের রাষ্ট্রদূত।


মন্তব্য