kalerkantho


রাস্তায় ময়লা ফেললেই ১৭৫০ রুপি জরিমানা!

মাহতাব হোসেন, থিম্পু থেকে   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৭:০০



রাস্তায় ময়লা ফেললেই ১৭৫০ রুপি জরিমানা!

পুরো ভুটান দেশটাই পাহাড়ের ওপর। হাজার হাজার মাইল উঁচু পাহাড়ের ওপর দিয়ে রাস্তা।

সেই রাস্তাই যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। ভুটানের এক শহর থেকে আরেক শহর যুক্ত হয়েছে এই পাহাড়ের রাস্তা দিয়ে। পাহাড় কেটে বানানো এই রাস্তা দিয়ে বিভিন্ন যানবাহনের মাধ্যমে যাতায়াত করে ভুটানের মানুষরা।  

পাহাড় কেটে, পাহাড়ের ওপর নির্মিত এই রাস্তা দিয়ে গাড়িতে যাওয়ার সময় বুকের রক্ত ছলকে ওঠে। রাস্তাগুলো এত ঝুঁকিপূর্ণ যে একটু উনিশ-বিশ হলেই সব শেষ। গাড়ি পাহাড়ের খাদ দিয়ে গড়িয়ে কয়েক হাজার ফুট নিচে পড়ে চিরতরে হারিয়ে যাবে। এখানে সমতল ভূমি আর পাহাড়ের রাস্তার মধ্যে একটা সাদৃশ্য রয়েছে, তা হলো নিট অ্যান্ড ক্লিন।  

গতকাল আমরা গেদুর রয়্যাল ইউনিভার্সিটি অফ ভুটানের বিজনেস স্ট্যাডিজ ক্যাম্পাসে গিয়েছিলাম। ক্যাম্পাসের ছেলেমেয়েরা এখানে সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে আছে।

সবাই সবার সাথে কথা বলছে কিন্তু সেটার পরিমাণ কম, তারচেয়েও মজার বিষয় হলো, সেই কথার স্বর এত নিচু যে পরস্পর ছাড়া অন্য কারো কানে পৌঁছে না। কেউ ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করছে, কেউ মোবাইলে গুগল করছে। পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে অদ্ভুত নীরবতা। বিভিন্ন বিভাগে গেলাম, লাইব্রেরিতে গেলাম। ক্যাফেতে গেলাম। সবখানেই নীরবতা, শান্তি শান্তি ভাব। আর সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, পুরো ক্যাম্পাসে কোথাও ময়লা নেই, নোংরা নেই। একটু ধুলোও জমা নেই।  

এর আগে আমি জীবনেও কোথাও এত ঝকঝকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেখিনি। কফি খেতে গিয়ে অন্যরকম ভালোলাগা ছুঁয়ে গেছে। ক্যাফে মানেই হুল্লোড়। এই ক্যাম্পাসের ক্যাফে নীরব। পাহাড়ের রাস্তার কথাটা শেষ করিনি। শেষ কথাটা হলো তিন দিনের ভুটান ভ্রমণে এখন পর্যন্ত কোথাও ধুলোবালি কিংবা ময়লা জমে থাকতে দেখিনি। ভুটানের মতো একটি দেশ এত নিট অ্যান্ড ক্লিন, হয়ত না এলে এই বিস্ময়ের ভেতর হাঁটা হতো না।  

অবশ্য এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পেছনে একটি প্রচ্ছন্ন কারণ আছে, আর তা হলো কোথাও ময়লা কিংবা লজেন্সের খোসাও যদি কেউ রাস্তায় ফেলে তাহলে ১৭৫০ রুপি জরিমানা দিতে হবে।


মন্তব্য