kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আটক ৮৬ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

সাবেদ সাথী, নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি   

১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ২২:১৬



অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আটক ৮৬ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

অবৈধ অনুপ্রবেশ, জঙ্গি সম্পৃক্ততা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক ৮৬ জন বাংলাদেশিকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রায় ২ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কারাগারে আটক রাখার পর তাদেরকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

এর আগে অবৈধ অনুপ্রবেশ, জঙ্গি সম্পৃক্ততা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে চলতি বছরের এপ্রিল ও জুলাই মাসে দু’দফায় ৬৮ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।  

যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন এবং কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) দপ্তর সূত্রে জানা যায়, অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক ওই ৮৬ বাংলাদেশির সবাই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীর কথা উল্লেখ করে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন। এ বিষয়ে যথাযথ কাগজপত্র এবং নিজেদেরকে দলের কর্মী হিসেবে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত বছর দুই হাজারের অধিক বাংলাদেশি মেক্সিকো হয়ে বেআইনি পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় গ্রেপ্তার হন। এদেরকে টেক্সাস, আরিজোনা, আলাবামা, লুজিয়ানা, ক্যালিফোর্নিয়া, পেনসিলভেনিয়া, ফ্লোরিডাসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়। সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ছিলেন টেক্সাসের এল পাসো ডিটেনশন সেন্টারে। বছরাধিককাল অতিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও মুক্তি না পাওয়ায় গত বছরের শেষার্ধে এল পাসো ডিটেনশন সেন্টারের অর্ধ শতাধিক বাংলাদেশি অনশন ধর্মঘট শুরু করেছিলেন। তাদের সাথে সেই ধর্মঘটে অংশ নেন ভারতীয় এবং পাকিস্তানিরাও । টানা ৭ দিনের অনশনে বিচলিত বোধ করেন মার্কিন প্রশাসন। এরপরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় সেই ধর্মঘটের অবসান ঘটে। কিন্তু অধিকাংশ বন্দিদেরকে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়নি। বিভিন্ন শর্তে যারা মুক্তি পেয়েছেন তারা আদালতে নিয়ন্ত্রণ পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। বর্তমানে অভিবাসন কেন্দ্রে আটক বাংলাদেশির সংখ্যা প্রায় দেড় শতাধিক।

এরপর তৃতীয় দফায় ৮৬ জনের মধ্যে ৪৬ জনের একটি তালিকা মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এরা বাংলাদেশি কিনা তা নিশ্চিত হতে চায় মার্কিন প্রশাসন। কারণ এরা বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করলেও নাগরিকত্ব সম্পর্কিত সঠিক কোন কাগজপত্র সরবরাহ করতে পারেননি। তারা অভিবাসন আদালতকে জানিয়েছেন, দুর্গম পথ পাড়ি দেওয়ার সময় পাসপোর্ট খোয়া গেছে অথবা মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকিয়ে দেওয়ার সময়েই তাদের পাসপোর্ট কেড়ে নিয়েছে দালালরা।  

বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনাকারী তাদের নামে বাংলাদেশে সন্ত্রাস ও জ্বালাও-পোড়াওয়ের অসহনীয় ঘটনাবলী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে বলে জানা গেছে। বিএনপি এবং জামায়াত-শিবিরের সাথে সম্পৃক্ত অনেকেই ওইসব সন্ত্রাসের সাথে জড়িত বলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। দালালকে যারা বিপুল অর্থ দিয়ে সেন্ট্রাল আমেরিকার বিভিন্ন দেশ ঘুরে মেক্সিকো এসেছেন, তারা রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার ক্ষেত্রে যে যুক্তি দেখিয়েছেন, তার কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। এমনকি তাদের অনেকেই বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সংগঠক তারও প্রমাণপত্র মেলেনি। এ কারণেই অভিবাসন দপ্তরের পক্ষ থেকে তাদেরকে বাংলাদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তারা যে বাংলাদেশেরই নাগরিক এ বিষয়টি নিশ্চিত হলেও মার্কিন বিমানে তাদের ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, ৮৬ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পত্র পাঠিয়েছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। ওই পত্রে চার্টার্ড বিমানে করে দুই দফায় ৮৬ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এদেরকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিস্কারের চুড়ান্ত আদেশ জারি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার এ তালিকা উপযুক্ত নথিপত্রসহ ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে জমা দিয়েছে। পাশাপাশি ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের দূতাবাসে তালিকাভুক্ত বাংলাদেশি ব্যক্তিদের ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করতেও অনুরোধ করেছিল মার্কিন সরকার। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছে, চলতি মাসেই দুটি ফ্লাইটে এদেরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে। তবে আগে থেকেই যারা অবৈধভাবে বসবাস করছেন  তারা এ তালিকার অন্তর্ভুক্ত হবে না।

বহিস্কারের তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন- হাসান মাহমুদ, মোহাম্মদ উদ্দিন, মো.আলম, সোহরাব হোসেন, মো. মোহসিন, বাচ্চু মিয়া, জাহাঙ্গীর আলম, মোজাম্মেল হোসেন, গাজী কবির, আহম্মদ রুমন, আবুল কাশেম, মো. রহমান, এনামুল ইসলাম, মো. শিপন আহম্মেদ চৌধুরী, আবু বক্কর, মো. আজিজুর রহমান, রিপেন নজরুল, জাহিদুর রহমান, সাবুল হাসাইন, সৌরভ দেব, বিবেক কান্তি দাস, আব্দুল মাসুদ, সাব্বির আহমেদ, জয়নাল আবেদীন, মামুন আলম, মোহাম্মদ শাহাদত, হেলাল উদ্দিন, আলমগীর হোসেন, মনিরুল মুন্না, বি. হুসাইন, মো. আরাফাত, তাজুল ইসলাম, সোহরাব হোসেন, সামসুদ্দিন, আব্দুর রহীম, মোহাম্মদ ইসলাম, আকতার হুসেইন, শাহীন আহম্মেদ, নাসির উদ্দিন, ফারুক আহমদ, মোহাম্মদ রহিম, মোহাম্মদ সোহেল, আহমদ শেখ সিব্বিন, শিব্বির আহমদ, আব্দুর রহমান, মোহাম্মদ ইব্রাহীম, মোহাম্মদ ইসলাম, মো. ইসলাম, রাশেদুল ইসলাম, জাহেদ আহমদ, আবু সাঈদ, মোহাম্মদ ভূঁইয়া, হাসান মোহাম্মদ, শরিফুল হাসান, মো. ওহিদুর রহমান, মোহাম্মদ উদ্দিন, এনায়েত করিম, রিপন সর্দার, ফয়েজ মোল্লাহ, আব্দুস সামাদ, বশির বাবু, মোহাম্মদ হুদা, মোহাম্মদ রহমান, মাইনুল ইসলাম, অহিদুল ইসলাম, সুলতানুল আরফিন, মিনহাজুর রহমান, হুমায়ুন কবির, নাসের এম. ডাবু, আব্দুল রহমান, মোহাম্মদ ইসলাম, মামুনুর রশীদ, রুহুল আমিন, কালু চৌধুরী, নূরল আলম, শরীফ উল্লাহ, মালিক খসরু, আকরাম হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক, মোহাম্মদ আল আমিন, অসীম চন্দ্র দাস, আসাদুল সিদ্দিকী, মিল্টন রোজারিও, ইকবাল হোসেন ও মো. শফিকুল আলম। এ তালিকার উল্লেখিত অধিকাংশের দেশের বাড়ি সিলেট ও নোয়াখালী অঞ্চলে বলে জানা গেছে। তবে মার্কিন প্রশাসনের কাছে তাদের চুড়ান্ত ঠিকানা নিয়ে এখনও সংশয় রয়েছে।


মন্তব্য