kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


'সে ঈদে ভীষণ কেঁদেছিলাম'

নূপুর মাহমুদা   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১১:০৪



'সে ঈদে ভীষণ কেঁদেছিলাম'

ঈদ মানে খুশি ঈদ মানে আনন্দ। এই কথাটার সার্থকতা তখনই যখন ঈদটা আপনজনদের সাথে কাটানো যায়,আপনজন ছাড়া ঈদটা যেন শুধুমাত্র নতুন জামা আর ভালোমন্দ খাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে, আসলে আপজনের সাথে ভাগাভাগি ছাড়া ঈদের আনন্দ পরিপূর্ণ হয় না।

তাই দীর্ঘ প্রবাস জীবনে ঈদ আসলে আনন্দের চেয়ে মনটাই বেশি খারাপ হয়ে যায়, এখানে এসে এমনও অনেক ঈদ গেছে আমি ঈদের আগের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত কাজ করে বাসায় রাত ১টার সময় পৌঁছেছি আর সকাল ৬টায় আমার স্বামী কাজে চলে গেছেন।

মনে পড়ে এখানকার প্রথম কোরবানির ঈদের কথা, ঈদের আগের দিন আমার কাজ ছিল দুপুর ২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। আমি ভেবেছিলাম কাজ শেষ করে এসে অন্তত রাতে সেমাইটা রান্না করবো যাতে আমার ছেলে আর স্বামী মিষ্টিমুখ করে নামাজে যেতে পারে। কিন্তু কেউ একজন সিক কল দেওয়াতে আমার ম্যানেজার এসে বললো মাহমুদা তোমাকে ১২টা পর্যন্ত থাকতে হবে। শুনেতো আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা। মনে মনে বললাম হারামজাদা কয় কি! কিন্তু কিছুই করার ছিল না। সেদিন আমি ভীষণ কেঁদেছিলাম। তবে সময়ের সাথে সাথে মানুষের সব সয়ে যায়- আমাদেরও সয়ে গেছে। শুধুমাত্র মনের ভিতরের কোথায় যেন এক কষ্ট! সেটা শুধু আমিই টের পাই।

ছেলেমেয়েদেরকে যদি বলি কোরবানি ঈদে আমাদের সব থেকে আনন্দের বিষয় হলো গরু কেনা আর সবাইকে জিজ্ঞেস করা ভাই আপনার গরুটার কত দাম নিলো? ওরা বলে Oh my God, how could you do this!! it`s so embarrassing. কিন্তু আমি কিভাবে বুঝায়ে এই embarrassing things টা করতে পারছি না বলেইতো আমার মনে দুঃখ কুরে কুরে খাচ্ছে। আসলে এটা কোনো embarrassing things নয়। অন্তত আমাদের কাছে। ভাই গরুটার বা ছাগলটার কত দাম নিল? এই কথাটার মধ্যে দিয়েই যেন সারা বাংলাদেশের মানুষ এক হয়ে যায় অন্তত এই একটা দিনে, এটাইতো আসলে ঈদের মূল বিষয়।

এখানেও কোরবানি হয়, তবে নিয়ম ভিন্ন। কারণ এখানে শহরের ভেতরে কোনো পশু জবাই দেওয়ার নিয়ম নেই। সব হয় শহরের বাইরে, সরকারের তরফ থেকে ভেড়া বা গরুর একটা ভাগের দাম ঠিক করে দেওয়া হয়। যারা কোরবানি দিতে চায় তারা যেকোনো মুসলিম দোকানে গিয়ে ঈদের আগে নাম লিখায়ে টাকা দিয়ে আসে। ঈদের পরের দিন দোকান থেকে ফোন করলে গিয়ে মাংস নিয়ে আসতে হয়।

আমরা বাঙালি এলাকায় থাকি বলে বাচ্চাদের ঈদের দিন স্কুল বন্ধ থাকে। কিন্তু বেশির ভাগ এলাকাতে ঈদের দিনও বাচ্চাদের স্কুল খোলা থাকে। সময় সুযোগ থাকলে এর ওর বাসায় ও আসা যাওয়া হয়। এত দূরে থাকি তাই যতই মিস করি না কেন আপনজনদের সাথে ঈদ করা হয়ে ওঠে না। কিন্তু যারা বাংলাদেশের বিভিন্ন শহর থেকে আপনজনদের কাছে ঈদ করতে যায়, তারা যেন নিরাপদে তাদের আপনজনদের কাছে যেতে পারে। ঈদ শেষে তারা যেন নিরাপদে তাদের কর্মস্থলে ফিরে আসতে পারে। ঈদ যেন সবার জীবনে আনন্দ বয়ে আনে।

নূপুর মাহমুদা, ইস্ট লন্ডন, যুক্তরাজ্য থেকে


মন্তব্য