kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বোস্টনে কবি শহীদ কাদরীর প্রবাস জীবন নিয়ে আলোচনাসভা

সাবেদ সাথী, নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি:   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১০:২০



বোস্টনে কবি শহীদ কাদরীর প্রবাস জীবন নিয়ে আলোচনাসভা

কবি শহীদ কাদরীর দীর্ঘ প্রবাস জীবন নিয়ে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বোষ্টনে। বোষ্টন সংলগ্ন ক্যামব্রিজের রিঞ্জ এভেন্যুর একটি মিলনায়তনে কবির প্রবাস জীবনের সঙ্গী ও একই ঘরের বাসিন্দারা গতকাল এ সভার আয়োজন করেন।

বোষ্টন প্রবাসী কবি সাজেদ কামালের সভাপতিত্বে এবং কবির দীর্ঘদিনের একই ঘরের বাসিন্দা মিন্টু কামরুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় বক্তারা বলেন, কবি শহীদ কাদরী বাংলা কবিতায় যে নতুন ধারার প্রচলন করেছিলেন, তা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি তাঁর লেখনীর মধ্য দিয়েই বেঁচে থাকবেন বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে। বোষ্টন ও নিউ ইয়র্কে দীর্ঘদিন প্রবাসজীবন কাটালেও শহীদ কাদরীর অস্তিত্বজুড়ে সব সময় ছিল বাংলাদেশ।
বক্তারা আরো বলেন, কবিকে হারিয়ে বাংলা সাহিত্যের যে ক্ষতি সাধিত হয়েছে তা কখনোই মেটানো সম্ভব হবে না। প্রয়াত কবির শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনাও জানান বক্তারা।
সভায় শহীদ কাদরীর প্রবাস জীবনের সাহিত্যচর্চা, প্রেম ভালবাসাসহ নানা বিষয় নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করা হয়। আলোচনা সভায় অংশ নেন বিশেষ অতিথি রোজী কামাল, ড. আবু হাসনাত, প্রধান বক্তা বোষ্টন প্রবাসী কবি বদিউজ্জামান নাসিম, মাহবুবুল হক ডিউক, গোলাম মোর্তুজা মিলন, ড. কামরুল ইসলাম, উত্তম ও কামরুজ্জামান মিন্টু প্রমুখ। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে আখতার মাহমুদ, আব্দুর রাজ্জাক ও ইকবাল ইউসুফ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রয়াত কবির আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন মোহাঃ ইসলাম।  
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী একুশে পদকপ্রাপ্ত বাংলা ভাষায় অন্যতম প্রধান কবি শহীদ কাদরী রক্ত সংক্রমণ জনিত কারনে নিউ ইয়র্কের লং আইল্যান্ড এলাকার নর্থ শোর বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে গত ২৮ আগষ্ট রবিবার সকাল ৮টা ২০ মিনিটে লং আইল্যান্ড এলাকার নর্থ শোর বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে কবি শহীদ কাদরী শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করেন। একই দিন সন্ধ্যায় জামাইকা মুসলিম সেন্টারে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। পরদিন সোমবার রাতে কবির মরদেহ এমিরেটস এয়ারলাইন্সে বাংলাদেশের পাঠানো হয়। কবি শহীদ কাদরীর মরদেহ বিমানে করে বাংলাদেশে নেওয়ার সমস্ত খরচ বহন করবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
উল্লেখ্য,বাংলা কবিতার অন্যতম জীবিত কিংবদন্তী কবি শহীদ কাদরী গত ১৪ আগষ্ট ৭৪ বছরে পা রাখেন। ১৯৪২ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন কোলকাতার পার্ক সার্কাসে। ১০ বছর বয়সে চলে আসেন ঢাকায়। ১৯৫৩ সালে, মাত্র এগার বছর বয়সেই, ‘পরিক্রমা’ শিরোনাম দিয়ে তিনি একটি কবিতা লিখে ফেলেন, যেটি ছাপা হয় মহিউদ্দিন আহমদ সম্পাদিত ‘স্পন্দন’পত্রিকায়। এরপর লিখেন, ‘জলকন্যার জন্য। সেটিও স্পন্দনেই ছাপা হয়। এভাবেই শুরু। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘উত্তরাধিকার বের হয় ১৯৬৭ সালে। তখন তাঁর বয়স ২৫ বছর। এই গ্রন্থে অবশ্য প্রথম রচিত কবিতা দুটি সন্নিবেশিত হয়নি। ‘উত্তরাধিকার’এ সংকলিত কবিতাগুলো কৈশোর এবং প্রথম যৌবনে রচিত হলেও ম্যাচিউরিটির কোনো অভাব নেই তাতে। একজন কবির বয়স যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয় এর প্রকৃষ্ঠ উদাহরণ কবি শহীদ কাদরী। কবি শহীদ কাদরীর কবিতায় শরতের উপস্থিতি শরৎঋতু-বৈশিষ্ট্যের আবহে অবস্থান করেই তা কখনো বিপ্লবী, কখনো মানবিক আবার কখনো স্বপ্নচারী। `নশ্বর জ্যোৎস্নায় কবিতায় তিনি একটি সময়ের কথা বলেছেন যে সময় এখনো আসেনি। কবিতাটিতে তিনি যে চিত্রকল্প নির্মাণ করেছেন তা বাংলার শরৎ ঋতুরই ছবি। `জ্যোৎস্নায় বিব্রত বাগানের ফুলগুলি, অফুরন্ত/হাওয়ার আশ্চর্য আবিস্কার করে নিয়ে/চোখের বিষাদ আমি বদলে নি’আর হতাশারে/নিঃশব্দে বিছিয়ে রাখি বকুলতলায়/সেখানে একাকী রাত্রে, বারান্দার পাশে/সোনালী জরির মতো জোনাকীরা নক্সা জ্বেলে দেবে’।
 

মন্তব্য