kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আমেরিকায় ঈদুল আজহার সেকাল-একাল

গোলাম সাদত জুয়েল   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২১:০৫



আমেরিকায় ঈদুল আজহার সেকাল-একাল

আপনজন ছাড়া প্রবাসের ঈদ নিরানন্দ হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে আমেরিকা প্রবাসী বেশিরভাগ বাঙ্গালির কাছে ঈদ অনেক আনন্দের।

কারন আমেরিকায় বেশীর ভাগ প্রবাসীরা পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করেন। তাই প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে দারুণ ঈদ কাটে তাদের। আমেরিকায় বাংলাদেশীদের আগমন আশির দশক থেকে। তবে ৮২ সাল থেকে ৯১ সাল পযন্ত ৯ বছরে অনেক প্রবাসী আমেরিকায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে পাড়ি জমান। আবার ১৯৯১ সাল থেকে ওপি-১ ও ডিভি ভিসার মাধ্যমেও অনেক প্রবাসী আমেরিকায় আসেন। তখন বেশীর ভাগ প্রবাসী ছিলেন ব্যাচেলর, তাই কোরবানি দেবার চিন্তা কেউ করতেন না। বেশির ভাগই দেশে টাকা পাঠিয়ে দিতেন কোরবানির পশু ক্রয় করার জন্য।

বিশ্বের যে কোন দেশের চাইতে সবচেয়ে ভাল ইমিগ্রেশন সুবিধা আমেরিকায় বিদ্যমান। আমেরিকায় একজন গ্রিনকার্ডধারী পাঁচ বছর পর সিটিজেন হবার সুযোগ পান। পরবর্তীতে আবেদনের মাধ্যমে নিজের স্ত্রী,সন্তান, বাবা-মা, এবং ভাই বোনদের আমেরিকায় নিয়ে আসার সুযোগ থাকে। যদিও ক্ষেত্রবিশেষে তা ১২-১৪ বছর সময় লাগে। সে হিসাবে আমেরিকায় অসংখ্য বাঙ্গালি পরিবারের লাখো সদস্যের মিলনমেলায় অনেকটাই দেশীয় আমেজে ঈদ উদযাপিত হয় । রোজার ঈদের মত কোরবানি ঈদটা হয়ে উঠে বেশ উপভোগ্য।

(সম্পাদিত)

ফার্ম  কতৃপক্ষ প্রবাসীদের বিশেষ ব্যবস্থা করে রাখে।   প্রথমত, ফার্ম  কতৃপক্ষ  প্রথম গরুটি কোরবানি দিয়ে সেটার মাংস রান্নার ব্যবস্থা করে এবং কয়েকশ প্রবাসী কোরবানির মাংস খাবার সুযোগ পান। তারপর ক্রমান্বয়ে দিনব্যপী কোরবানি চলে। সেখানে বিশেষ টেবিলের ব্যবস্থা থাকে যেখানে প্রবাসী নিজেরাই মাংস কেটে ভাগ বাটোয়ারা করে বাড়িতে নিয়ে আসতে পারেন। প্রতিটি ফার্মে গড়ে সারা দিন ২৮/৩০ গরু ও ৫০/৬০ টি খাসি বা ল্যাম্ব কোরবানি দেওয়া হয়। প্রবাসীরা দল বেঁধে খাবার নিয়ে ‍উপস্তিত হন। চলে ঈদের আড্ডা। সেইসঙ্গে খাওয়া দাওয়া ও শিশুদের নানা খেলাধুলার ব্যবস্থাও থাকে।

প্রবাসীরা সাধারণতে  ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে কোরবানি দেন। একটি গরু অন্তত ৭ টি পরিবারে বন্টিত হয়। গরুর দাম পড়ে ১২ ডলার থেকে ১৮ শ ডলার; খাসি ৩০০ থেকে ৪৫০ ডলার আর ল্যাম্বের দাম পড়ে ৩৫০ ডলারের মত। অনেকে আবার ফার্ম থেকে গরু জবাই করে ৬/৮ পিস করে নিজ বাসায় নিয়ে আসেন। তারপর গ্যারেজে বসে ভাই বোন আত্বীয় স্বজন বন্ধু বান্ধব নিজেরা কাটাকাটি করে কোরবানি সম্পন্ন করেন। অনেকে ফার্ম থেকে সরাসরি গ্রোসারী দোকানে নিয়ে যান। সেখানে প্রতি পাউন্ড ৫০ সেন্ট হিসেবে মাংস কেটে সরাসরি বাসায় নিয়ে আসেন। অনেক গ্রোসারী আবার কোরবানির অর্ডার নিয়ে থাকে। সেখানে একেকটি অংশ ২৪০ থেকে ২৬০ ডলার রেটে প্রবাসীরা কোরবানিতে শরীক হন। ব্যাস্ত প্রবাসীরা ঝামেলা এড়াতে গ্রোসারী থেকে টাকা দিয়ে মাংস সংগ্রহ করেন।

এভাবেই ঈদ আসে প্রবাসীদের ঘরে। আমেরিকায় কোরবানি যেমন সহজ  ঠিক তেমনি  ইসলামী জীবন যাপনও সহজ। প্রয়োজন শুধু অনুসরন করার। কোরবানির শিক্ষা ধারন করার মধ্যে দিয়ে অনেক প্রবাসী সহজ সাধারন জীবন যাপন করেন আমেরিকায়।


মন্তব্য