kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


'বাবা দিবসে' অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি নারী ও তার সঙ্গী হলেন লাশ!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১২:৪২



'বাবা দিবসে' অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি নারী ও তার সঙ্গী হলেন লাশ!

ছয় বছর একসঙ্গে থাকার পর সম্প্রতি সঙ্গীর সাথে বিচ্ছেদ ঘটে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিবাসী বাংলাদেশি নারী তাসনিম বাহারের। স্মিথফিল্ডের এক বাড়িতে থাকতেন তাসনিম ও সঙ্গী ডেভ পিল্লাই।

বিচ্ছেদের পর মেয়েকে নিয়ে আলাদাই থাকতেন তাসনিম। বাবা দিবস পালন করতে এসে ওই বাড়িতেই লাশ হলেন তামনিম ও সঙ্গী ডেভ।

সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ছয় বছর একসঙ্গেই ছিলেন তাঁরা। সম্পর্কে জটিলতার কারণে কিছুদিন আগে তাসমিনের (৩৫) সঙ্গে ডেভের (৪০) বিচ্ছেদ ঘটে। তাসনিম তিন বছর বয়সী মেয়েকে তার বাবার কাছ আনেন বাবা দিবস কাটানোর জন্য। এর পরই রহস্যময় ঘটনা। রবিবার দুপুরে পিল্লাইয়ের এক আত্মীয় ওই বাড়িতে গিয়ে বাথরুমে দুজনের লাশ দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে লাশ দুটো উদ্ধার করে। এ ঘটনাকে হত‌্যা এবং আত্মহত‌্যা বলে ধারণা করছে স্থানীয় পুলিশ।

বাহারের বোন শারজিন বাহার থাকেন নিউ ইয়র্কে। বোনের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে বাংলাদেশে আসবেন শারজিন। তারপর এখান থেকে অস্ট্রেলিয়া পৌঁছবেন। বাবা-মা হারা ভাগ্নিকে নিজের কাছেই রাখবেন বলে সংবাদমাধ্যমকে জানান শারজিন। বাচ্চাটির জন্য ভালো যা হয় তাই করবেন।

শারজিন আরো জানান, দুই দিন আগেই তাসনিমের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাকে স্বাভাবিক বলেই মনে হয়েছে। ছয় বছরের সম্পর্ক তাদের। তবে পিল্লাই অতীতে মারধরের হুমকি দেওয়া শুরু করায় মেয়েকে নিয়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাসমিন। বিষয়টি পুলিশকেও জানিয়ে রেখেছিলেন। কয়েক সপ্তাহ আগে তাসনিম মেয়েকে নিয়ে আলাদা একটি অ্যাপর্টমেন্টে ওঠেন।

'আমি ওকে বলেছিলাম ওই বাড়িতে আর না যেতে। কিন্তু বাবা দিসবে সে মেয়েকে নিয়ে ওখানে যায়,' জানান শারজিন।

তাসমিনের খালাতো বোন সিফাত শারমিন রুপন্তি জানান, তাকেও পিল্লাইয়ের হুমকি-ধমকি সম্পর্কে জানিয়েছিলেন তাসনিম।

রুপন্তি বলেন, তার কাজিন ২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। বিজ্ঞান বিষয়ে লেখাপড়া করেছেন।

পিল্লাইয়ের প্রতিবেশী জন আর্কোর স্ত্রী দেখতে পান, গোলাপি পোশাক পরা ছোট মেয়েটি পেছনের উঠানো 'মামি, মামি' বলে চিৎকার করছে। এ কথা আর্কোকে জানান স্ত্রী। পরে তিনি সেখানে গিয়েই লাশ দেখতে পান।

সিডনির পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় তারা অন‌্য আর কাউকে সন্দেহ করছে না। কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
সূত্র : সিডনি মর্নিং হেরাল্ড

 


মন্তব্য