kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আমেরিকায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে সাবেক বাংলাদেশি শিক্ষিকার মৃত্যু

শরীয়তপুর প্রতিনিধি   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৯:৩১



আমেরিকায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে সাবেক বাংলাদেশি শিক্ষিকার মৃত্যু

আমেরিকার জ্যামাইকা ক্রুজে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে শরীয়তপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী শিক্ষিকা নাজমা বেগম (৬০) নিহত হয়েছেন। আমেরিকার স্থানীয় সময় বুধবার রাত ৯টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত নাজমা বেগমের স্বামীর নাম শামছুল আলম খান। তিনি শরীয়তপুর সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক। নাজমা বেগমের মৃত্যুর খবরে গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

নিহতের পরিবার জানায়, নিউইয়র্ক এর বাঙ্গালী অধ্যুষিত জ্যামাইকা ক্রুজ শহরে স্বামীকে নিয়ে কর্মস্থল থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন। অজ্ঞাত সেই দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে। স্বামী শামছুল আলম তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

নিহত নাজমার বেগমের বাড়ি শরীয়তপুর সদর উপজেলার আটিপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম শাহাদাৎ হোসেন খান। ১৯৭২ সালে শরীয়তপুর সরকারী কলেজের প্রভাষক শামসুল আলম খানের সাথে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। শরীয়তপুর জেলা শহরে সদর হাসপাতাল সংলগ্ন বাড়িতে তারা দীর্ঘ ২ যুগ বসবাস করেছেন। নাজমার ২ ছেলে ও ১ মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলে নাজমুল আলম খান লিটু ও মেয়ে তৃনা খানম ঢাকায় বসবাস করছেন। আর ছোট ছেলে  শুভকে নিয়ে ২০০৮ সাল থেকে আমেরিকায় বসবাস করে আসছিলেন। ছোট ছেলে শুভকে বিয়ে দেওয়ার জন্য আর দুই মাস পরেই  দেশে ফেরার  কথা ছিল নাজমা বেগমের।

নিহত নাজমা বেগমের বড় ভাইয়ের স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার কান্নাজড়িত কন্ঠে  বলেন, নাজমা আমার ননদ। সারা জীবন আমরা আপন বোনের মত চলেছি। গত কাল রাতে ফোনে আমার সাথে কথা হয়েছিল। মাঝে মধ্যেই ফোন করে  অসুস্থ্য মায়ের খবর নিতেন। দুই মাস পরে ছোট ছেলে শুভকে বিয়ে করাতে সবাই মিলে দেশে ফিরার কথা ছিল তার।

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক মো.মাহমুদুল হোসাইন খাঁন বলেন, নাজমা বেগমের নিহত হওয়ার বিষয়টি আমরা শুনেছি। তবে দাপ্তরিক ভাবে আমাদের কাছে এখনো কোন চিঠি আসেনি। তার মৃতদেহ দেশে নিয়ে আসতে পরিবার আমাদের কাছে সহযোগিতা চাইলে আমরা সহযোগিতা করবো।


মন্তব্য