kalerkantho

শুক্রবার । ২০ জানুয়ারি ২০১৭ । ৭ মাঘ ১৪২৩। ২১ রবিউস সানি ১৪৩৮।


অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি   

১ এপ্রিল, ২০১৬ ১৩:১৭



অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকালে আটকসহ এ দেশে থাকা অবৈধ বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রথমেই আটক ১৬৯ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে আমাদের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে আটকদের দেশে ফেরত না পাঠানোর দাবিতে গত মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে এক বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে প্রবাসীরা। আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রাটিক দলীয় প্রার্থী হিলারি ক্লিন্টনের নির্বাচনী অফিসের সামনে এটি অনুষ্ঠিত হয়। আটক বাংলাদেশিদের বহিষ্কারাদেশ বন্ধের জন্য হিলারির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় উক্ত সমাবেশ থেকে।

দক্ষিণ এশিয়ান অভিবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে কর্মরত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'দেশীজ রাইজিং আপ অ্যান্ড মুভিং' (ড্রাম) এর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে সাম্প্রতি জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত বেশ ক'জন অভিবাসীও উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট অবৈধ পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকালে আটক অভিবাসীদের বহিষ্কার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ তালিকায় ১৬৯ জন বাংলাদেশিও রয়েছেন। এরা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে অবস্থান করছেন। সবাইকে আনা হচ্ছে অ্যারিজোনায় ইমিগ্রেশন কারাগারে । সেখান থেকেই সরাসরি বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের আটক অভিবাসীদের গণহারে ডিপোর্ট করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

মেক্সিকো সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আসা দক্ষিণ এশিয়ায় যেসব মানুষ রাজনৈতিক আশ্রয় লাভের আশায় আমেরিকায় এসেছেন তাদের ডিপোর্ট করার জন্য আরিজোনার ক্লোরেন্সে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই ক্লোয়েন্সেস গণ ডিপোর্টের জন্য স্টেজিং গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এই সব লোকদের মধ্যে অনেকেই বাংলাদেশি এবং ২০১৫ সালের শেষ দিকে মুক্তির জন্য তারা অনশন ধর্মঘট করেছিলেন। এরা সকলেই বিএনপির কর্মী হিসেবে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার সময় উল্লেখ করেছেন যে, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অত্যাচার-নির্যাতনে অতীষ্ঠ হয়ে দেশ ত্যাগে বাধ্য হয়েছেন।

মার্কিন ইমিগ্রেশনের এসাইলাম অফিসাররা তাদের আবেদনের বর্ণনায় মিথ্যা তথ্য খুঁজে পাওয়ায় সরাসরি বাংলাদেশ সরকারের কাছে জানতে চায় সামগ্রিক পরিস্থিতি। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মার্কিন প্রশাসনকে জানিয়েও দেওয়া হয়েছে যে, অ্যাসাইলামের প্রয়োজনে তারা মিথ্যা কথা বলেছেন। তাদের অধিকাংশই বিএনপির কর্মী-সমর্থক নন বলেও স্টেট ডিপার্টমেন্টে তথ্য রয়েছে।

এদের মধ্যে অনেকেই দালালকে মোটা অর্থ দিয়ে সকলেই বিভিন্ন দেশ হয়ে মেক্সিকো সীমান্ত পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় তারা গ্রেপ্তার হয়েছেন। গত তিন বছরে প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশি গ্রেপ্তার হন। এর অর্ধেকেরই জামিন হয়েছে অর্থাৎ তাদের অ্যাসাইলামের আবেদন পেন্ডিং রয়েছে। ৬ শতাধিককে বিভিন্ন শর্তে জামিন প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে ১৬৯ জনকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে ঢাকায় প্রকাশিত জাতীয় এক দৈনিকের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অবৈধ বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে আমাদের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের সভায় এসব প্রস্তাব দেওয়া হয়। সকাল ১১টায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ সভা শুরু হয়। দুই দফায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের ১৪ জন সদস্য সভা করেন। প্রতিনিধিদলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া বার্নিকাটও ছিলেন। বাংলাদেশের তরফ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রসচিব ড. মোজাম্মেল হক খান, আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদসহ পুলিশ ও র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রথম সভায় নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি’র আন্তর্জাতিক বিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অ্যালান বার্সিন। পরের সভায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের আন্ডার সেক্রেটারি সারাহ সিওয়াল। দুটি সভায় জঙ্গিবাদ, মানবাধিকার, মানবপাচার, শরণার্থী ও ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমেরিকান দুজন মন্ত্রী পদমর্যাদার প্রতিনিধি এসেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে সন্ত্রাস মোকাবিলা প্রসঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁরা আমাদের কাছে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অগ্রগতি নিয়ে জানতে চেয়েছিলেন। ’

 


মন্তব্য