kalerkantho


আটক বাংলাদেশিদের বহিষ্কারাদেশ বন্ধের দাবিতে নিউ ইয়র্কে বিক্ষোভ

সাবেদ সাথী, নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি:    

৩১ মার্চ, ২০১৬ ২১:৪৯



আটক বাংলাদেশিদের বহিষ্কারাদেশ বন্ধের দাবিতে নিউ ইয়র্কে বিক্ষোভ

অবৈধ পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকালে আটক ১৬৯ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত না পাঠানোর দাবিতে আবারো যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় গত সমঙ্গলবার আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রাটিক দলীয় প্রার্থী হিলারি ক্লিন্টনের নির্বাচনী অফিসের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। আটক বাংলাদেশিদের বহিস্কারাদেশ বন্ধের জন্য হিলারির দৃষ্টি আকর্ষন করা হয়।

দক্ষিণ এশিয়ান অভিবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে কর্মরত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘দেশীজ রাইজিং আপ এ্যান্ড মুভিং’ (ড্রাম) এর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে সাম্প্রতি জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত বেশ ক’জন অভিবাসীও উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট অবৈধ পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকালে আটক অভিবাসীদের বহিস্কার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ তালিকায় ১৬৯ জন বাংলাদেশিও রয়েছেন। এরা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে অবস্থান করছেন। সবাইকে আনা হচ্ছে অ্যারিজোনায় ইমিগ্রেশন কারাগারে । সেখান থেকেই সরাসরি বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
এ বিক্ষোভ সমাবেশে সাম্প্রতি জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত সাইফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে নানাভাবে হয়রানী ও নির্যাতনের শিকার হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছি। এখানেও অসহনীয় যন্ত্রণা, তাহলে আমরা যাবো কোথায়?
জাহেদ আহমেদ বলেন, অনেক দেশ পাড়ি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছি। রাজনৈতিক নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে নিজে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছি। এখন আবার সেই বিভিষিকাময় পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দেয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছে ওবামা প্রশাসন। যদি আমাদেরকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়, তাহলে জীবনের নিরাপত্তা দেবে কে?  এ কর্মসূচির আগে কংগ্রেসনাল বাংলাদেশ ককাসের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার যোসেফ ক্রাউলির সাথেও সাক্ষাত করেন প্রবাসের নেতৃবৃন্দ।
বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের আটক অভিবাসীদের গণহারে ডিপোর্ট করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মেক্সিকো সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আসা দক্ষিণ এশিয়ায় যেসব মানুষ রাজনৈতিক আশ্রয় লাভের আশায় আমেরিকায় এসেছেন তাদের ডিপোর্ট করার জন্য আরিজোনার ক্লোরেন্সে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই ক্লোয়েন্সেস গণ ডিপোর্টের জন্য স্টেজিং গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এই সব লোকদের মধ্যে অনেকেই বাংলাদেশি এবং ২০১৫ সালের শেষ দিকে মুক্তির জন্য তারা অনশন ধর্মঘট করেছিলেন। এরা সকলেই বিএনপির কর্মী হিসেবে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার সময় উল্লেখ করেছেন যে, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অত্যাচার-নির্যাতনে অতীষ্ঠ হয়ে দেশ ত্যাগে বাধ্য হয়েছেন।
মার্কিন ইমিগ্রেশনের এসাইলাম অফিসাররা তাদের আবেদনের বর্ণনায় মিথ্যা তথ্য খুঁজে পাওয়ায় সরাসরি বাংলাদেশ সরকারের কাছে জানতে চায় সামগ্রিক পরিস্থিতি। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মার্কিন প্রশাসনকে জানিয়েও দেয়া হয়েছে যে, এসাইলামের প্রয়োজনে তারা মিথ্যা কথা বলেছেন। তাদের অধিকাংশই বিএনপির কর্মী-সমর্থক নন বলেও স্টেট ডিপার্টমেন্টে তথ্য রয়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই  দালালকে মোটা অর্থ দিয়ে সকলেই বিভিন্ন দেশ হয়ে মেক্সিকো সীমান্ত পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় তারা গ্রেফতার হয়েছেন। গত তিন বছরে প্রায় দু’হাজার বাংলাদেশী গ্রেফতার হন। এর অর্ধেকেরই জামিন হয়েছে অর্থাৎ তাদের এসাইলামের আবেদন পেন্ডিং রয়েছে। ৬ শতাধিককে বিভিন্ন শর্তে জামিন প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে ১৬৯ জনকে বহিস্কারের প্রক্রিয়া চলছে।


মন্তব্য