kalerkantho


লিবিয়ায় জমজমাট ভাবে পালিত হলো মহান স্বাধীনতা দিবস

শায়মা জাহান তিথি, ত্রিপলি থেকে   

২৭ মার্চ, ২০১৬ ০৯:২৪



লিবিয়ায় জমজমাট ভাবে পালিত হলো মহান স্বাধীনতা দিবস

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ কমিউনিটি স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দূতাবাস কর্তৃক আয়োজিত হলো এক অনন্য সাধারণ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. শাহিদুল হক, ম্যাডাম রাষ্ট্রদূত, কাউন্সেলর (শ্রম), কাউন্সেলর (রাজনৈতিক), প্রথম সচিব, বাংলাদেশ কমিউনিটি স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ, অভিভাবক-অভিভাবিকাবৃন্দ এবং প্রবাসীরা।

অনুষ্ঠান শুরু হয় স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায়। কোরআন তিলাওয়াত, জাতীয় সংগীত এবং মান্যবর রাষ্ট্রদূতের উদ্বোধনী ভাষণের পর কেক কাটার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু করা হয়। এরপর একে একে বেশ কয়েকটি দেশাত্মবোধক দলীয় সংগীত, একক সংগীত এবং নৃত্য পরিবেশিত হয়। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে সামিনা চৌধুরীর গাওয়া একটি অসাধারণ অথচ প্রচার-বিমুখ গান 'একাত্তরের বীর বাহিনীর আমি একজনা'- এর সাথে একজন মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের প্রতি পাকিস্তানি মিলিটারির অত্যাচার প্রদর্শন-পূর্বক একটি করুণ কাহিনি দৃশ্যায়িত হয়।

এর আগের দিন ২৫ মার্চ, বাংলাদেশ দূতাবাস এবং বাংলাদেশ কমিউনিটি স্কুল ও কলেজের যৌথ উদ্দ্যোগে স্কুল প্রাঙ্গণে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মেলা উৎসবের আয়োজন করা হয়। সেখানে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশীয় খাবার ও মিষ্টান্নের স্টল দেয়। এ ছাড়াও সাংস্কৃতিক আয়োজনের পুরোটাই অনুষ্ঠিত হয় উপস্থিত প্রবাসীদের অংশগ্রহণে। নাচে-গানে দর্শকদের মাতিয়ে তুলে মুহূর্তেই যেন স্কুল-প্রাঙ্গণটিকে একখণ্ড বাংলাদেশে পরিণত করেছিল দেশপ্রেমিক এই প্রবাসীরা। দূতাবাসের উদ্দ্যোগে স্কুল ও কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ব্যবস্থাপনায় এই মেলায় প্রায় দুই হাজার প্রবাসীর উপস্থিতি লক্ষ করা যায়, যা লিবিয়ার বর্তমান পরিস্থিতে সম্পূর্ণ কল্পনাতীত।

    

লিবিয়ায় চলমান নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির মাঝেও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী বিশাল আয়োজন করে যে দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ, তা সত্যিই অতুলনীয়। এ ছাড়াও পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে যে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে, তাও সন্দেহাতীতভাবে প্রশংসনীয়।

 

 

 

 


মন্তব্য