kalerkantho


প্রেসিডেন্ট হলে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের প্রবেশ নিষেধ করবেন ট্রাম্প

সাবেদ সাথী, নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি   

১৯ মার্চ, ২০১৬ ০২:৩১



প্রেসিডেন্ট হলে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের প্রবেশ নিষেধ করবেন ট্রাম্প

মুসলিমবিদ্বেষী ট্রাম্প চূড়ান্তভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের প্রবেশ নিষেধ করতে চান প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রক্ষণশীল রিপাবলিকান দলের প্রার্থী বাছাইয়ের দৌড়ে এগিয়ে থাকা ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি মুসলমানদের ঢালাওভাবে ‘সন্ত্রাসী’ বলেও গাল দেন।

ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গিদের নিশ্চিহ্ন করতে ট্রাম্প ব্যাপকভিত্তিক সামরিক অভিযানের পক্ষে। মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে তাঁর এ অবস্থান যেন ট্রাম্পকার্ডের চমককেও হার মানায়। এ কারণে এই ঘাড়ত্যাড়া মানুষটিকে নিয়ে দুনিয়াজুড়ে কৌতূহলের অন্ত নেই।
 এর মধ্যে সঙ্গত কারণেই পররাষ্ট্রনীতির বিষয়টি এসে যায়। বিশ্ব মোড়লগিরিতে শীর্ষ কাতারে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মাতব্বরিতে মার্কিন প্রশাসন কার ওপর কতটা ছড়ি ঘোরাতে, অনেকটাই এ নীতির ওপর নির্ভরশীল। তার ওপর ট্রাম্পের যেহেতু অর্থ বাদে রাজনৈতিক পটভূমি তেমন পোক্ত নয়, কাজেই এখানে কৌতূহলটা আরও বেশি। ট্রাম্প যদি পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট হয়েই যান, তাহলে কেমন হবে তাঁর পররাষ্ট্রনীতি? অনেকেই এখন এ ব্যাপারে আভাস পেতে ইচ্ছুক।
ট্রাম্প নিজেই বলেছেন যে তাঁর কোনো পররাষ্ট্র উপদেষ্টা নেই। তাই বলে এই নীতির ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা বাতলাতে পিছিয়ে নেই। ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী অবস্থান তো সবারই জানা।   প্রেসিডেন্ট হলে সব অভিবাসনপ্রত্যাশীকে যে তিনি ঝেঁটিয়ে তাড়াবেন, এ কথা জোর দিয়ে বলেছেন। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল খাড়া করতে যতটুকু করার করবেন। এ কাজের অর্থ মেক্সিকোকে বহন করতে বাধ্য করতে চান তিনি। মেক্সিকানদের ধর্ষক, অপরাধী ও মাদক ব্যবসায়ী বলে তিরস্কার করেছেন তিনি। ট্রাম্পের এসব বক্তব্যের সমালোচনা করেছে মেক্সিকো। তাঁকে (ট্রাম্প) হিটলার ও মুসোলিনির সঙ্গে তুলনা করেছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট।
সঠিক আচরণ না করলে চীন, জাপান ও মেক্সিকোর সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। ওয়াশিংটন-মস্কো সম্পর্কে টানাপোড়েন চললেও ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী। প্রেসিডেন্ট হলে ট্রাম্পকে তাঁর পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে কে দিক-নির্দেশনা দেবেন অথবা তিনি কাকে তাঁর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেবেন, তা স্পষ্ট নয়। সম্প্রতি ট্রাম্প বলেছেন, তাঁর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক কোনো দল নেই। সঠিক সময়ে দল গঠন করবেন তিনি। মার্কিন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, রিপাবলিকান দলের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক শতাধিক বিশেষজ্ঞ ট্রাম্পের বিরোধিতা করে একটি চিঠিতে সই করেছেন। তাতে তাঁরা বলেছেন, পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে ট্রাম্পের যে দৃষ্টিভঙ্গি, তা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাকে দুর্বল করবে। মার্কিন কূটনীতিকেরা ব্যক্তিগত পর্যায়ে বলছেন, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হলে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কী প্রভাব পড়বে- তা নিয়ে বিদেশিরা উদ্বিগ্ন।


মন্তব্য