kalerkantho

ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ১৫ লাখ টাকা আদায়!

অভিযোগ চট্টগ্রামের ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে

আদালতে মামলা আ. লীগ নেতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চট্টগ্রামে থানায় ধরে নিয়ে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ১৫ লাখ টাকা আদায় করার অভিযোগে নগরের পাঁচ পুলিশসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন মো. নুরুল আবছার নামে আওয়ামী লীগের সাবেক এক কেন্দ্রীয় নেতা ও ব্যবসায়ী। গতকাল সোমবার সকালে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা ও বিশেষ জজ মোহাম্মদ আকবর হোসেন মৃধার আদালতে এ মামলা দায়ের করা হয়। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রামের পরিচালককে এ বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলায় আসামিরা হলেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের পতেঙ্গা থানার সাবেক ওসি আবুল কাসেম ভূঁইয়া, এসআই প্রণয় প্রকাশ, এসআই আবদুল মোমিন, এএসআই তরুণ কান্তি শর্মা, এএসআই কামরুজ্জামান ও এএসআই মিহির। অন্য তিনজন স্থানীয় মাদক বিক্রেতা বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তারা হলো ইলিয়াছ ওরফে গাভী ইলিয়াছ, মো. জসিম ও মো. নুরুল হুদা।

বাদীর আইনজীবী মোহাম্মদ মোমিনুর রহমান জানান, মামলার বাদী মো. নুরুল আবছার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির ধর্মবিষয়ক সাবেক সহসম্পাদক ও একজন ব্যবসায়ী। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত বছরের ১ জুন বিকেলে মোবাইল ফোনে কল করে পতেঙ্গা থানার এসআই প্রণয় প্রকাশ তাঁর অবস্থান জানতে চান এবং বাসা থেকে রাস্তায় গিয়ে দেখা করতে বলেন। ১৫ মিনিট পর তিনি সেখানে যান। এর কিছু সময়ের মধ্যেই সেখানে হাজির হন এএসআই তরুণ কান্তি শর্মা, এসআই আবদুল মোমিন, এএসআই কামরুজ্জামান ও এএসআই মিহির। তাঁরা তাঁকে থানায় গিয়ে ওসি আবুল কাসেমের সঙ্গে দেখা করতে বলেন। এরপর ওই পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নুরুল আবছার থানায় যান। সেখানে গিয়ে কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁর কাছ থেকে এএসআই কামরুজ্জামান মোবাইল ফোন, গাড়ির চাবি ও টাকা-পয়সা নিয়ে নেন। পরে অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করে তাঁকে একটি কক্ষে আটকে রাখেন।

বাদি নুরুল আবছার বলেন, ‘পরের দিন দুপুরে এসআই আবদুল মোমিন ও এসএসআই মিহির কক্ষে এসে আমাকে বলেন, তুই ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক ব্যবসা করিস। জীবিত থাকতে হলে ৩০ লাখ টাকা দিবি। না দিলে ইয়াবা দিয়ে ক্রসফায়ারে দিব।’ এরপর অন্য কর্মকর্তারাও ৩০ লাখ টাকার জন্য তাঁকে ভয়ভীতি দেখান।

অভিযোগে নুরুল আবছার বলেন, ওই সময় কোনো উপায় না দেখে তিনি ফুফাতো ভাইয়ের মাধ্যমে ১৫ লাখ টাকা আনান এবং এসআই আবদুল মোমিন ও এএসআই কামরুজ্জামান ওই টাকা গ্রহণ করেন। এর পরই এসআই প্রণয় প্রকাশ ও এসআই আবদুল মোমিন ৩০ লাখ টাকার অবশিষ্ট ১৫ লাখ দিতে বলেন। অন্যথায় ক্রসফায়ারে মৃত্যু অথবা প্রদর্শিত ইয়াবা দিয়ে আদালতে চালান দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

তিনি আর কোনো টাকা না দেওয়ায় এএসআই তরুণ কান্তি শর্মা বাদী হয়ে গত বছরের ৩ জুন পতেঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সে মামলায় ৪০ বোতল বিদেশি মদ নিজ হেফাজতে রেখে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে ২৫(বি) ধারায় অপরাধ করার কথা অভিযোগ উল্লেখ করা হয়। পরে ওই দিন দুপুরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর প্রায় দুই মাস জেল খেটে ২৯ জুলাই জামিনে কারাগার থেকে বের হন নুরুল আবছার। এ নিয়ে তিনি দুদকেও লিখিত অভিযোগ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বর্তমানে সিএমপির পাঁচলাইশ থানার ওসি আবুল কাসেম ভূঁইয়া বলেন, ‘নুরুল আবছার পুলিশের তালিকাভুক্ত চিহ্নিত একজন মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে অনেক মামলা রয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে সারা দেশে মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযান চলাকালে আমরা তাকে গ্রেপ্তার করেছিলাম। তার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

মন্তব্য