kalerkantho

সম্প্রীতি বাংলাদেশের সেমিনার

গণহত্যা দিবসের স্বীকৃতি লাভে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস ঘোষণার দাবিতে আরো সোচ্চার হতে হবে। এই রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর হত্যাকাণ্ডের চিত্র যদি বিশ্বদরবারে নথিপত্রের মাধ্যমে সঠিকভাবে তুলে ধরা যায়, তবে কঠিন হলেও এই স্বীকৃতি পাওয়া সম্ভব। গতকাল রবিবার সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘একাত্তরের ২৫ মার্চের গণহত্যা ও আমাদের ভাবনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে (ভিআইপি লাউঞ্জ) সম্প্রীতি বাংলাদেশ আয়োজিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সম্প্রীতি বাংলাদেশের সদস্য ড. নুজাহাত চৌধুরী। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। সভাপতিত্ব করেন সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়।

উপস্থাপিত প্রবন্ধে বলা হয়, ‘২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া হয়তো এত সহজ হবে না। তাই পরিপূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে নামতে হবে। সে জন্য পর্যাপ্ত নথিপত্র সংগ্রহ করতে হবে। ১৯৭৫ সালে জাতির জনককে হত্যা করা হয়। আমাদের এই স্বাধীন দেশ ১৯৭৫ থেকে ছিয়ানব্বই সাল পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তির কাছে থাকায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল। তাই সে নথিপত্র খুঁজে পাওয়া সহজ হবে না।’

২৫ মার্চের গণহত্যাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৫ মার্চের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে ৯ ডিসেম্বর যেহেতু আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস পালিত হচ্ছে, তাই ২৫ মার্চ কী করে গণহত্যা দিবস পালন করব, সেটি একটি প্রশ্ন। দিবস পরিবর্তন করে নতুন তারিখ ঠিক করা কঠিন; যার জন্য আমরা আমাদের কাগজপত্রগুলো বিভিন্ন মহলে উপস্থাপন করছি, যাতে বিষয়টির প্রস্তাব উঠলে সবাই সমর্থন দেয়।’ মন্ত্রী বলেন, ‘২০১৭ সাল থেকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস পালিত হচ্ছে। তখন একটা সুযোগ ছিল স্বীকৃতি নেওয়ার। কিন্তু বিষয়টির সাথে সংশ্লিষ্টরা সঠিকভাবে নথিপত্র উপস্থাপন করতে না পারাটা আমাদের ব্যর্থতা।’ মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে যারা বিতর্কিত করতে চায়, বিশ্বাস করে না, তারাই মুক্তিযুদ্ধের শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। যারা এ ধরনের প্রশ্ন তোলে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের বিচার হওয়া উচিত।

সভাপতির বক্তব্যে পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যে গণহত্যা শুরু করেছিল তাতে এক রাতে দশ হাজার বাঙালিকে হত্যা করা হয়। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন ঘটনা বিরল, মাত্র ৯ মাসে ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করা।’

সম্প্রীতি বাংলাদেশের সদস্যসচিব ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার (অব.), জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. অসীম সরকার, সাবেক তথ্য ও সংস্কৃতি সচিব নাসিরউদ্দিন আহমেদ, বীরপ্রতীক মেজর (অব.) ওয়াকার হাসান, কবি আসাদ মান্নান প্রমুখ।

মন্তব্য