kalerkantho

লক্ষ্মীপুরে কেন্দ্রে নেতাদের দাপট, ছিল না ভোটার

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

২৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



লক্ষ্মীপুরের পাঁচটি উপজেলায় কম ভোটার উপস্থিতি, জালভোট ও আটকের মধ্য দিয়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন শেষ হয়েছে। জেলার ৪৫৮টি কেন্দ্রের কোনোটিতেই ভোটারদের তেমন উপস্থিতি ছিল না। এদিকে রামগঞ্জ উপজেলার দুটি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রকাশ্যে জাল ভোট দিতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছয়জনকে আটক করে পুলিশে সৌপর্দ করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দাপট থাকলেও নেই চোখে পড়ার মতো ভোটার উপস্থিতি। গতকাল রবিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত সদর উপজেলার হাজিরপাড়া সরকারি হামিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ৯ নম্বর বুথে একটি ভোটও পড়েনি। প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, লক্ষ্মীপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও আলিয়া মাদরাসা কেন্দ্রে কোনো ভোটারকে লাইনে দাঁড়াতে দেখা যায়নি। চরশাহী ইউনিয়নের পূর্ব জাফরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রের মহিলা বুথে ছয় ঘণ্টায় একটি ভোটও পড়েনি। সকাল ১১টার দিকে দুর্বৃত্তরা ওই বুথের ব্যালট পেপার ছিনতাই করলে সেখানে এক ঘণ্টার জন্য ভোটগ্রহণ স্থগিত ছিল। পরে ১২টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে আবার ভোট গ্রহণ শুরু হয়।

রায়পুরের কেরোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তিনটি ও ছবিলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেড় ঘণ্টায় ৩৫টি ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছেন প্রিসাইডিং অফিসার। রায়পুরের পশ্চিম কেরোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৌকা প্রার্থীর এজেন্ট ছাড়া অন্য কোনো এজেন্টকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রিসাইডিং অফিসার রুহুল কবির বলেন, ‘নৌকা ছাড়া অন্য কোনো এজেন্ট আসেনি। স্বাক্ষরও নিতে পারিনি।’

তবে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জামাল পাটওয়ারী বলেন, ‘নৌকা ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থীর এজেন্ট এখানে দরকার নেই।’

রামগঞ্জের ভোলাকোট ইউনিয়নের দেহলা ভোটকেন্দ্রে ভাটরা ইউনিয়নের পাঁচরুখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আজাদ শেখ এবং ওয়ার্ড মেম্বর ইসমাইল হোসেন দুলালের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতাকর্মী কেন্দ্র দখল করে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের হাত থেকে ব্যালট পেপার নিয়ে নৌকা প্রতীকে সিল মারেন। পরে তাদের পুলিশে সৌপর্দ করা হয়।

 

মন্তব্য