kalerkantho

২৫শে মার্চ কালরাত

কালরাতে প্রথম প্রতিরোধের সগৌরব স্মৃতি

মাসুদুল আলম তুষার   

২৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কালরাতে প্রথম প্রতিরোধের সগৌরব স্মৃতি

একাত্তরের ২৫ মার্চ বিভীষিকাময় কালরাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস ব্যারাকে যেসব পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তাঁদের অভিজ্ঞতা ছিল ভিন্নতর। পূর্বঘোষণা ছাড়াই নেতৃত্বহীন এক যুদ্ধে অবতীর্ণ হন তাঁরা। হানাদার বাহিনী ঢাকা শহরে আক্রমণ শুরু করলে প্রথম প্রতিরোধের মুখে পড়ে রাজারবাগে।

কালরাতে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় ওয়্যারলেস বেইস থেকে বার্তা প্রেরণ করেছিলেন কনস্টেবল মো. শাহজাহান মিয়া। আর পাগলা ঘণ্টা বাজিয়ে বাঙালি পুলিশ সদস্যদের সমবেত করেছিলেন আব্দুল আলী। এ দুজন সাহসী যোদ্ধার সঙ্গে গতকাল রবিবার কথা হয় ঘটনাস্থল রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে। কালের কণ্ঠ’র কাছে তাঁরা গর্বভরে বর্ণনা করেন সে রাতসহ মুক্তিযুদ্ধের নানা কথা।

শাহজাহান মিয়া বলেন, ‘রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে হামলার শুরুতেই পুলিশ সদস্যরা থ্রি নট থ্রি রাইফেল দিয়ে গুলির মাধ্যমে পাল্টা জবাব দেন। এ অবস্থায় হতভম্ব হয়ে পড়ে পাকবাহিনী। পরে তারা শক্তি বাড়িয়ে রাজারবাগ দখলে নেয়। এতে অনেক পুলিশ সদস্য শহীদ হন। তার আগেই পূর্ব পাকিস্তানের সব পুলিশ স্টেশনগুলোতে একটি বার্তা পাঠাই।’ বার্তাটি ছিল ‘বেইস ফর অল স্টেশনস অব ইস্ট পাকিস্তান পুলিশ, কিপ লিসেন অ্যান্ড ওয়াচ, উই আর অলরেডি অ্যাটাকড বাই পাক আর্মি। ট্রাই টু সেভ ইয়োরসেলফস ওভার অ্যান্ড আউট।’ এ বার্তা পাঠিয়ে শাহজাহান মিয়া হয়ে যান ইতিহাসের অংশ। এ জন্য পরদিন ভোর ৫টার দিকে পাকিস্তানি বাহিনী তাঁকে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে চলে অমানুষিক নির্যাতন। বন্দিত্ব থেকে মুক্ত হয়ে আট দিন পর হেটে বাড়ি ফেরেন। এরপর আবার বেরিয়ে পড়েন মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখ সমরে।

প্রথম প্রতিরোধের আরেক যোদ্ধা কনস্টেবল আব্দুল আলী। তৎকালীন আইজিপি তসলিমউদ্দিন সাহেবের বডিগার্ড ছিলেন আব্দুল আলী। দুপুর ২টা পর্যন্ত ডিউটি শেষ করে ফিরেছিলেন রাজারবাগে। এরপর দুপুরে খেয়ে কিছুটা বিশ্রাম নেন। বিকেল ৫টার দিকে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। ঘুরেফিরে অস্থিরতা টের পেলেও বোঝেননি রাতে কী ঘটতে চলেছে।

তাঁর স্মৃতিচারণা থেকে জানা যায়, হামলার কিছুটা আগে আব্দুল আলী একাকী দাঁড়িয়ে ছিলেন অন্ধকারে। তখন একজন মোটরবাইক আরোহী রাজারবাগ ১ নম্বর গেট দিয়ে ঢুকে এই জরুরি বার্তা দিয়ে যান যে রাজারবাগে পাকিস্তানি সেনারা রাতে আক্রমণ করবে—বঙ্গবন্ধু সব পুলিশ সদস্যকে আক্রমণ প্রতিহত করার নির্দেশ দিয়েছেন। শেখ কামাল বলে পরিচয় দিয়ে দ্রুত চলে যান মোটরসাইকেল আরোহী।

কনস্টেবল আব্দুল আলী ছুটে যান ৬ নম্বর ব্যারাকের দিকে। সেখানে অন্যদের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ‘উত্তেজনায় আমার শরীর কেঁপে উঠছিল। কিন্তু কিভাবে কী করব বুঝে উঠতে পারছিলাম না।’ পরে আব্দুল আলী অস্ত্রাগারের সামনে ঝোলানো পাগলা ঘণ্টা বাজিয়ে পুলিশ সদস্যদের জড়ো করেন। অস্ত্রাগারের তালা ভেঙে সবাই প্রস্তুতি নেন। এর কিছুক্ষণ পরই শুরু হয় হামলা। প্রাথমিক প্রস্তুতি থাকায় প্রতিরোধ গড়া সহজ হয় তখন।

 

মন্তব্য