kalerkantho

২৫শে মার্চ কালরাত
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ৯ বছর

আপিলের শুনানি নেই তিন বছর

রেজাউল করিম   

২৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আপিলের শুনানি নেই তিন বছর

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কোনো আপিলের শুনানি হচ্ছে না তিন বছর ধরে। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৮ মার্চ আলবদর নেতা মীর কাসেম আলীর আপিল নিষ্পত্তি হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে। এরপর আর কোনো আপিলের শুনানি হয়নি। একই বছরের ৩০ আগস্ট খারিজ করা হয় মীর কাসেম আলীর রিভিউ আবেদন। এ পর্যন্ত ২৬টি আপিল নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে। এসবের মধ্যে আসামিদের পক্ষে ২৫টি আর সরকারপক্ষে আছে একটি।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল ২০১০ সালের ২৫ মার্চ। তখন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষে আপিল করার কোনো বিধান ছিল না। ২০১৩ সালে কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে মামলার রায় ঘিরে দেশব্যাপী আন্দোলন ও গণজাগরণের মুখে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন ১৯৭৩ সংশোধন করে সরকারপক্ষের আপিলের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়। এর পরও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আপিল নিষ্পত্তি হতে সময় বেশি লাগার অভিযোগ ওঠে বিভিন্ন সময়।

আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক এ বিষয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দায়ের হওয়া আপিলগুলো নিষ্পত্তি হবে। হয়তো একটু সময় নিচ্ছে। তবে আশা করি, প্রধান বিচারপতি এ বিষয়ে উদ্যোগ নেবেন।’

এ বিচারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা আন্দোলন করে আসছিলেন তাঁরা এবং গবেষকরা বলছেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে অন্যান্য মামলার পাশাপাশি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার কাজ চলে। ফলে এসংক্রান্ত আপিল নিষ্পত্তি হতে সময় বেশি লাগে। এসব মামলার আপিল নিষ্পত্তির জন্য আপিল বিভাগে বিশেষ বেঞ্চ অথবা ট্রাইব্যুনালে একটি আপিল বেঞ্চ গঠন করা দরকার বলে মনে করেন তাঁরা।

সাংবাদিক ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক আজাদুর রহমান চন্দন বলেন, ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন সংশোধন করে এসংক্রান্ত মামলার আপিল ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করার বিধান করা হয়েছে। কিন্তু আপিল বিভাগের জন্য ওই বিধান বাধ্যতামূলক নয়। আইন সংশোধন করে এসংক্রান্ত আপিল নিষ্পত্তির সময়সীমা বেঁধে দেওয়ায় আপিল বিভাগ বরং অসন্তুষ্টিও প্রকাশ করেন। বাস্তবেও ৬০ দিনের মধ্যে এসংক্রান্ত আপিল নিষ্পত্তি হওয়ার নজির এখনো সৃষ্টি হয়নি। এ পর্যন্ত সবচেয়ে কম সময় (ছয় মাস) লেগেছে কাদের মোল্লার আপিল নিষ্পত্তি হতে।

একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আপিল বিভাগে হাজার হাজার মামলা। অন্য সাধারণ মামলার আপিলের মতোই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর আপিল নিষ্পত্তি হতে সময় লাগছে। কম্বোডিয়ায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে যে ট্রাইব্যুনাল করা হয়েছে, তার ভেতরই একটি আপিল ট্রাইব্যুনাল আছে। আমাদের দেশেও এটি করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল আইনটি সংশোধন করতে হবে। এ জন্য আমরা অনেক আগে থেকেই আইনমন্ত্রীকে বলছি।’

নিয়ম অনুয়ায়ী অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে এসব আপিলের ওপর দ্রুত শুনানির দিন ধার্য করতে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালতে আবেদন দাখিল করতে হয়। এরপর ওই আদালত তারিখ নির্ধারণ করে শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার আপিল শুনানি শুরু করার চেষ্টা করছি। শিগগিরই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।’

সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুস সুবহান, দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলাম এবং জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের আপিল শুনানির জন্য কয়েকবার আপিল বিভাগের দৈনন্দিন কার্য তালিকায় এলেও শুনানি হয়নি। এ ছাড়া নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোবারক হোসেন (মৃত্যুদণ্ড), চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাহিদুর রহমান (আমৃত্যু কারাদণ্ড), পটুয়াখালীর ফোরকান মল্লিক (মৃত্যুদণ্ড), বাগেরহাটের সিরাজ মাস্টার (মৃত্যুদণ্ড) ও খান আকরাম হোসেন (মৃত্যুদণ্ড), নেত্রকোনার আতাউর রহমান ও ওবায়দুল হক তাহের (মৃত্যুদণ্ড), কিশোরগঞ্জের শামসুদ্দিন আহম্মেদ (মৃত্যুদণ্ড), হবিগঞ্জের মহিবুর রহমান বড় মিয়া (মৃত্যুদণ্ড) ও মুজিবুর রহমান আঙ্গুর মিয়া (আমৃত্যু কারাদণ্ড), জামালপুরের মো. শামসুল হক ওরফে বদরভাই ও এস এম ইউসুফ আলী (আমৃত্যু কারাদণ্ড) এবং যশোরের সাখাওয়াত হোসেনের (মৃত্যুদণ্ড) আপিল।

অন্যদিকে পিরোজপুরের রাজাকার ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বারকে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সাজার (আমৃত্যু কারাদণ্ড) বিরুদ্ধে আপিল করেছে সরকারপক্ষ।

 

 

 

মন্তব্য