kalerkantho

বিলুপ্ত কমিটিতে চলছে চবি ছাত্রলীগ

চাকসু ভোটের আগেই কমিটি দাবি

মোবারক আজাদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়   

২৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) এক বছর মেয়াদে ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সংঘর্ষের জেরে ২০১৭ সালের ৪ মে ওই কমিটি স্থগিত করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। পরে একই বছরের ৬ ডিসেম্বর কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চবি কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (চাকসু) নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিলেও চবি শাখা ছাত্রলীগের কমিটি দেওয়ার বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েও কমিটি বিলুপ্তির ১৫ মাসেও কমিটি ঘোষণা না করায় নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। তবে চাকসু নির্বাচন হলে কমিটি নিয়ে ভেবে দেখবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। কিন্তু চাকসু নির্বাচনের আগে তাদের কমিটি চায় চবি ছাত্রলীগ।

জানা যায়, চাকসু নির্বাচন দিতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত বুধবার প্রভোস্ট কমিটি ও প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয় তারা। পরদিন চাকসু নির্বাচন দেওয়ার লক্ষ্যে পাঁচ সদস্যের একটি নীতিমালা পর্যালোচনা ও সংশোধনী কমিটি গঠন করা হয়। এদিকে কমিটি না থাকায় এ নিয়ে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে একধরনের সংশয় কাজ করছে। তাদের দাবি, আগে ছাত্রলীগের কমিটি দেওয়া হোক, পরে হোক চাকসু নির্বাচন। ১৫ মাস ধরে সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত থাকায় বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত নেতার সংখ্যাও বাড়ছে। তাই সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ও চাকসু নির্বাচনে তাদের প্যানেলের বিজয় নিশ্চিত করতে নির্বাচনের আগে কমিটি হওয়া জরুরি।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি মো. রেজানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, ‘চবি ছাত্রলীগের কমিটির বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। যদি চাকসু নির্বাচন হয়, তাহলে চিন্তাভাবনা করে দেখা যাবে কী করা যায়।’

শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি এনামুল হক আরাফাত বলেন, ‘নেতৃত্ব বিকাশে ছাত্রসংসদের বিকল্প নেই। চাকসু নির্বাচনের আগেই যেন ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। আর চাকসু নির্বাচন নিয়ে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন যেভাবে চাইবেন, আমরা চবি ছাত্রলীগ সেভাবে কাজ করে যাব।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য ছাত্রসংগঠনগুলো চাকসু নির্বাচন দেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা চাচ্ছে, প্রশাসন ছাত্রসংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসুক এবং নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করুক। শাখা ছাত্রদলের সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, ‘চাকসু নির্বাচন এখন সময়ের দাবি।’

মন্তব্য