kalerkantho

আইসক্রিমে ক্ষতিকর পামওয়েল, রং

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আইসক্রিমে ক্ষতিকর পামওয়েল, রং

চট্টগ্রামের হাটহাজারী পৌরসভার একটি আইসক্রিম কারখানায় অভিযান চালিয়ে ক্ষতিকর রং, পামওয়েল,  ঘনচিনিসহ বিভিন্ন উপকরণ জব্দ করা হয়েছে। ধ্বংস করা হয়েছে দুই হাজার আইসক্রিম। জরিমানা করা হয়েছে কারখানার মালিককে।

গতকাল শনিবার দুপুরে ‘নিউ লাকী আইসক্রিম’ কারখানায় এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রহুল আমীন। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘এটা আইসক্রিম তৈরির কারখানা নয়, পয়জনিং বলা যায়। সেখানে আইসক্রিম তৈরিতে ক্ষতিক্ষারক যেসব রং, ঘনচিনি, পামওয়েল ব্যবহার করা হয়, তা মানুষকে ক্রমেই মৃত্যুর দিকে ধাবিত করবে।’ তিনি জানান, এসব আইসক্রিম শিশুরা বেশি খেয়ে থাকে। ফলে ঝুঁকিটা বেশি।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চট্টগ্রাম-নাজিরহাট-খাগড়াছড়ি সড়কের পাশে আব্বাসিয়া পুল এলাকায় ওই কারখানায় দিনে তিন থেকে চার হাজার আইসক্রিম বানানো হয়। এরপর সেগুলো আশপাশের এলাকায় বিক্রি হয়। বেশি বিক্রি হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে। স্থানীয়রা আরো জানায়, হাটহাজারী উপজেলায় এ ধরনের আরো আইসক্রিম কারখানা রয়েছে।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আইসক্রিমে ক্ষতিকারক রং মেশানোর কারণে লিভার ও কিডনি রোগের পাশাপাশি ব্লাড ক্যান্সার হতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘পামওয়েল মানুষের রক্তে ক্ষতিকারক চর্বি বাড়ায়। রক্তনালি সরু করে দেয়। ঘনচিনি ডায়াবেটিস, ওজন অস্বাভাবিক বৃদ্ধি করাসহ মানব শরীরের মারাত্মত ক্ষতি করে। প্রসূতি মায়েরা এসব আইসক্রিম খেলে শারীরিক ও মানসিক বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম হতে পারে। এসব আইসক্রিম সব বয়সের মানুষের জন্যই ক্ষতিকর। তবে শিশুদের জন্য বেশি মারাত্মক।’

এদিকে গতকাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন তাঁর ফেসবুক পেইজে একাধিক ছবি দিয়ে লিখেছেন, ‘হোলির রং ভেবে বিভ্রান্ত হবেন না। এটা আইসক্রিম কারখানায় ব্যবহৃত রং। অনেক চেষ্টা করেও ঘনচিনির ব্যবহার বন্ধ করা যাচ্ছে না। নিউ লাকি আইসক্রিম। চকবার আইসক্রিমের মধ্যে আবার পামওয়েল না দিলে নাকি আইসক্রিম হয় না।’

মন্তব্য