kalerkantho

আনসারের খোয়া যাওয়া রাইফেল উদ্ধার

মন্টু চাকমার পরিচয় নিয়ে ধন্দ

রাঙামাটি ও দীঘিনালা প্রতিনিধি   

২৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আনসারের খোয়া যাওয়া রাইফেল উদ্ধার

রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে ব্রাশফায়ারে নিহত আনসারের প্লাটুন কমান্ডার মিহির কান্তি দত্তর খোয়া যাওয়া রাইফেলটি ঘটনার চার দিন পর গতকাল শুক্রবার পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নিহত চার ভিডিপি সদস্যের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে অনুদান দিয়েছে জেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিচালক মো. শামসুল আলম প্রত্যেক পরিবারকে প্রতিশ্রুত পাঁচ লাখ টাকার মধ্যে নগদ এক লাখ টাকা করে তুলে দেন নিহতদের পরিবারগুলোর কাছে। নিহত মিহির কান্তি দত্ত, বিলকিস আক্তার, জাহানারা বেগম ও আল আমিনের পরিবারের হাতে গতকাল সকালে অনুদান তুলে দেওয়া হয়।

এদিকে বাঘাইহাট জোন পরিচালিত তল্লাশি অভিযানের সময় এই খোয়া যাওয়া অস্ত্রটি উদ্ধারের খবর নিশ্চিত করেছেন বাঘাইছড়ি উপজেলা আনসার কর্মকর্তা আবুল বাশার। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় ঘটনাস্থল থেকে এক কিলোমিটার দক্ষিণে সড়কের পাশে ৩০৩ রাইফেলটি উদ্ধার হয়।

গতকাল দুপুরে বাঘাইছড়ি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক (অভিযোগ ও নিরীক্ষা) আল মাহমুদ ফাইজুল কবির। তিনি প্রত্যক্ষদর্শী ও বাঘাইছড়ি থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাধীন আহতদের সঙ্গেও কথা বলেন।

এদিকে বাঘাইছড়ি ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আরো দুজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খাগড়াছড়ি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁরা হলেন রওশন আরা বেগম ও জ্যোস্না চাকমা।

কে এই মন্টু চাকমা : সেদিন হামলায় দুই পোলিং অফিসার ও চার আনসার সদস্যের সঙ্গে মন্টু চাকমা নামে অজ্ঞাতপরিচয় একজন নিহত হয়। কোনো কোনো গণমাধ্যমে নিহত মন্টু চাকমাকে পথচারী, কোথাও গাড়ির হেলপার বলে প্রচার করা হলেও তাঁর পরিচয় কেউ সুনিশ্চিত করতে পারছে না। পুলিশ বলছে, মন্টু চাকমা গাড়ির হেলপার ছিল বলেই তারা জেনেছে। কিন্তু বাঘাইহাট জিপচালক সমিতির সভাপতি মো. রহিম কালের কণ্ঠকে বলেন, মন্টু চাকমা নামে কোনো চালক বা হেলপার তাঁদের কোনো গাড়িতে নেই।

আক্রান্ত গাড়িবহরের সর্বশেষ গাড়িতে ছিলেন আনসারের প্লাটুন কমান্ডার সামশুজ্জামান। সামশুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, বাঘাইহাট থেকে যাত্রা করার পর এবং গুলিতে আক্রান্ত হওয়ার পরও ঘটনাস্থলে কোনো গাড়ি দাঁড় করানো হয়নি। তাই এটা নিশ্চিত নিহত মন্টু পথচারী নন। পথচারী হলে তাঁর লাশ পথেই পড়ে থাকার কথা ছিল। শামশুজ্জামান জানান, বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটিকে তিনিও ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। সামশুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থল থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় কথা বলার সময় বেশ কয়েকজনের কাছে নিহত মন্টু চাকমার বিষয়টি জানতে চেয়েছে তদন্ত কমিটি। কিন্তু পরিচয় কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি।

আক্রান্ত বহরের চারটি গাড়ির একটি ছিল বিজিবির সদস্যদের। বাকি গাড়ি তিনটির দুইটির চালক আল আমিন ও রুবেল। দুজনেই বলেছেন, মন্টু চাকমা তাঁদের হেলপার নন। অন্য গাড়ির চালক গুলিবিদ্ধ ইসমাইল চট্টগ্রামে চিকিৎসাধীন। তাই তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। বাঘাইছড়ি হাসপাতালে পৌঁছার পর গাড়ি থেকে হতাহতদের নামানোর সময় তাড়াহুড়ার কারণে মন্টুর লাশ কোন গাড়ি থেকে নামানো হয়েছিল তা-ও জানা যাচ্ছে না। 

বাঘাইছড়ি থানার ওসি বলেন, ‘মন্টুর পরিচয় পাওয়া গেছে, তার স্বজনরা লাশ নিয়ে দাহ করেছে।’ মন্টুর বিস্তারিত পরিচয় জানতে চাইলে তিনি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা বাঘাইছড়ি থানার উপপরিদর্শক (তদন্ত) জাহাঙ্গীর আলম জানান, নিহত মন্টু চাকমা খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের তপতি চাকমার ছেলে। তাঁর বাবা তপতি চাকমাকে সঙ্গে নিয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলার রূপকারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শ্যামল চাকমা তিনকিলো নামক এলাকায় মন্টুর লাশ বুঝে নিয়েছেন।

মন্তব্য