kalerkantho

জামিনে বেরিয়ে তাণ্ডব

এলাকাবাসী আতঙ্কে বাড়িঘরে হামলা-লুটপাট গ্রেপ্তার ২

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মসিংহ   

২৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের পল্লীতে গত বুধবার বিকেলে একটি পরিবার তৃতীয়বারের মতো হামলার শিকার হয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। হামলায় বাড়িঘর ভাঙচুর, মারধর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। আগের তিনটি মামলার আসামিরা জামিনে বেরিয়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পুলিশ দুইজনকে আটক করে গত বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠিয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে—একই গ্রামের মো. শাহীন আলম ও কাজল মিয়া।

বৃহস্পতিবার সকালে আশরাফুল আলমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় উঠানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ইটের টুকরো পড়ে আছে। ওই বাড়ির নারী-শিশু ও বৃদ্ধরা অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষের হামলার আশঙ্কায় তাঁরা সব সময় আতঙ্কগ্রস্ত থাকেন। গত বুধবার হামলাকারীরা আচমকা হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর শুরু করে। উপায় না পেয়ে পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত আশরাফুল আলম (৪৮) জানান, তাঁর প্রতিপক্ষ প্রতিবেশী শামছুল আলমের পুত্র শাহীন আলম, কাজল মিয়া, অঞ্জন মিয়াসহ কয়েকজন। তিনি জানান, প্রতিবেশীরা তাঁদের সব জমিজমা নিজেদের দাবি করছে। কিন্তু দাবির পক্ষে তারা কাগজপত্র দেখানোর পরিবর্তে জোর-জবরদস্তি শুরু করে। এ নিয়ে বিরোধ শুরু হলে দুই পক্ষ বছরখানেক আগে সালিস আহ্বান করে। সালিসকারীরা দুই পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে সালিসে হাজির থাকতে বলেন। কিন্তু সালিস আয়োজনের আগেই প্রতিপক্ষ তাঁদের ওপর হামলা চালিয়ে আশরাফুলের ভাতিজা রাজু কামালকে (২২) আহত করে। আশরাফুল আরো জানান, পর পর হামলার ঘটনায় তাঁরা থানায় তিনটি ও আদালতে ১০৭ ধারায় একটি মামলা করেছেন। আসামিরা ১০৭ ধারার মামলাটিতে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পায়। অন্য মামলায় জামিনে ছাড়া পেয়ে কিছুদিন চুপ থেকে আবার তাঁদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

দুটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঈশ্বরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সজীব চন্দ্র ঘোষ জানান, তিনি দুটি মামলার তদন্ত করে সত্যতা পেয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) জমা দিয়েছেন। গত বুধবার হামলার ঘটনায় ওই দিন রাতে দায়ের করা মামলাটির তদন্ত করা হচ্ছে। আসামিরা দাঙ্গাবাজ প্রকৃতির লোক বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শাহীন আলমের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য