kalerkantho

‘প্রগতির আলো সর্বত্র ছড়িয়েছিলেন নিখিল সেন’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘প্রগতির আলো সর্বত্র ছড়িয়েছিলেন নিখিল সেন’

নিখিল সেন স্মৃতি পর্ষদ আয়োজিত শ্রী নিখিল সেনকে শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় স্মরণ করেন সুধীজনরা ছবি : কালের কণ্ঠ

একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রয়াত নিখিল সেনকে শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় স্মরণ করে বিশিষ্টজনরা বলেছেন, শিল্প, সংস্কৃতি ও রাজনীতিতে এক বটবৃক্ষ ছিলেন নিখিল সেন। তাঁর প্রগাঢ় ছায়ায় আশ্রয় পায় জাতি-ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ। বাংলাদেশের মাটি ও মানুষ, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির জন্য তাঁর অনন্য ভালোবাসা ও আত্মত্যাগ ছিল। অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মানবিকতা ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে শুধু স্থানীয় পর্যায়ে নয়, জাতীয় পর্যায়েও ছড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। সংস্কৃতি ও প্রগতির আলোয় উদ্ভাসিত করেছেন অসংখ্য মানুষকে।

কথা, কবিতা, আলোচনা ও স্মৃতিচারণায় গতকাল শুক্রবার বিকেলে স্মরণ করা হয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নিখিল সেনকে। রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল স্মৃতি মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নিখিল সেন স্মৃতি পরিষদ। প্রয়াত এ গুণীকে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন রাজনীতি, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা। এসেছিলেন নিখিল সেনের গুণমুগ্ধ ভক্ত, অনুরাগী ও সুহৃদরা।

চারণের মতো ঘুরে ঘুরে বরিশালের সর্বত্র সংস্কৃতি ও প্রগতির আলো ছড়িয়েছেন নিখিল সেন। দীর্ঘ ৮৮ বছরের জীবনের প্রায় পুরোটা সময় বিলিয়েছেন বরিশালের সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধির জন্য। বরিশালের সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সংস্কৃতিজনদের অভিভাবক ছিলেন তিনি। তাঁর হাতেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বরিশাল শিল্পী সংসদ, বরিশাল থিয়েটার প্রভৃতি সাংস্কৃতিক সংগঠন।

নাটক ও আবৃত্তি ছিল তাঁর ধ্যানজ্ঞান। নাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি ২০টির বেশি নাটকের নির্দেশনাও দেন তিনি। এ ছাড়া ভাষা আন্দোলনের সক্রিয় সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে পালন করেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন একুশে পদক, শিল্পকলা পদক, মুনীর চৌধুরী সম্মাননা, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন পদক ও রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থা সম্মাননা। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন এই গুণীজন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন নিখিল সেন স্মৃতি পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সাংবাদিক তৌফিক মারুফ। পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমানের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য দেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মনজুরুল আহসান খান, নাট্যজন আতাউর রহমান, নাট্যজন মামুনুর রশীদ, বিচারপতি এ এফ আর এম নাজমুল আহসান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গোলাম কুদ্দুছ, অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত, আবৃত্তিশিল্পী ইস্তেকবাল হোসেন, নাট্যজন সৈয়দ আওলাদ, ইমানুয়েল হাকিম, শামসুদ্দিন কামাল প্রমুখ।

মন্তব্য