kalerkantho

পদ্মা সেতুতে বসল নবম স্প্যান, দৃশ্যমান ১৩৫০ মিটার

শরীয়তপুর ও মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পদ্মা সেতুতে বসল নবম স্প্যান, দৃশ্যমান ১৩৫০ মিটার

শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে গতকাল পদ্মা সেতুর ৩৫ ও ৩৪ নম্বর পিলারের ওপর আরেকটি স্প্যান বসানো হয়েছে। এ নিয়ে পদ্মা নদীতে নির্মাণাধীন সেতুতে মোট আটটি স্প্যান বসানো হলো। এতে মোট এক হাজার ৩৫০ মিটার দৃশ্যমান হলো সেতু। ছবি : কালের কণ্ঠ

শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবায় গতকাল শুক্রবার পদ্মা সেতুর ৩৪ ও ৩৫ নম্বর পিলারের ওপর নবম স্প্যান বসানো হয়েছে। এ নিয়ে পদ্মা নদীতে নির্মাণাধীন সেতুর এক হাজার ৩৫০ মিটার (১.৩৫ কিলোমিটার) দৃশ্যমান হলো। চলতি মাসেই বসানো হতে পারে সেতুর আরেকটি স্প্যান।

সেতুর জাজিরা প্রান্তে সপ্তম স্প্যান বসানোর এক মাস এক দিন পর গতকাল সকাল সোয়া ৮টায় বসানো হয় অষ্টম স্প্যানটি (সেতুর নবম স্প্যান)। গত বছরের শেষ দিকে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে ৪ ও ৫ নম্বর পিলারে একমাত্র স্প্যানটি বসানো হয়।

গত বৃহস্পতিবার সকালে সেতুর নবম স্প্যানটি বসানোর কথা থাকলেও স্প্যান বহনকারী ক্রেন সঠিকভাবে নোঙর করতে না পারায় ও নাব্যতা সমস্যার কারণে তা সম্ভব হয়নি।

সেতু বিভাগ জানায়, ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারের ওপর সেতুর প্রথম স্প্যান বসানো হয়। ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি ৩৮ ও ৩৯ নম্বর পিলারে দ্বিতীয় স্প্যান, ১১ মার্চ ৩৯ ও ৪০ নম্বর পিলারে তৃতীয়, ১৩ মে ৪০ ও ৪১ নম্বর পিলারে চতুর্থ, ২৯ জুন ৪১ ও ৪২ নম্বর পিলারে পঞ্চম, গত ২৩ জানুয়ারি (২০১৯) ৩৬ ও ৩৭ নম্বর পিলারে ষষ্ঠ এবং ২০ ফেব্রুয়ারি সেতুর অষ্টম স্প্যান বসানো হয়েছিল।

পদ্মা সেতুর সহকারী প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবীর জানান, মাওয়া কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে নবম স্প্যানটি প্রস্তুত ছিল। বুধবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে ভাসমান ক্রেনের মাধ্যমে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও তিন হাজার ১৪০ টন ওজনের নবম স্প্যানটি রওনা হয়ে দুপুর ১২টার দিকে জাজিরা প্রান্তে পৌঁছে।

মোট ৪২টি পিলারের (খুঁটি) ওপর ৪১টি স্প্যানের মাধ্যমে পদ্মা নদীর বুকে পূর্ণ রূপ পাবে পদ্মা সেতু। ২১টি পিলারের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে। ২৬২টি পাইল ড্রাইভের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে ২০৯টি। আর ২৯৪টি পাইলের মধ্যে ২৪১টি সম্পন্ন হয়েছে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের উন্নয়নের ‘অগ্রনায়ক’ পদ্মা সেতু। নবম স্প্যান বসানোর সংবাদে পদ্মাপারের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ করা গেছে। সেতুটি দেশের সড়ক বিভাগকে একসুতায় গেঁথে দেবে। সেতুর দুই পারে গড়ে উঠবে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র ও আধুনিক শহর। হবে শিল্পায়ন। শ্রমজীবী মানুষের ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। দেশের অর্থনীতিতে উন্মোচিত হবে এক নতুন দিগন্তের।

মন্তব্য