kalerkantho

ঢেঁড়স পানির স্বাস্থ্যগুণ

২৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঢেঁড়স পানির স্বাস্থ্যগুণ

যেভাবে বানাবেন : এক গ্লাস পানীয় বানাতে লাগবে চার-পাঁচটি ঢেঁড়স, এক গ্লাস পানি, মরিচ ও প্রয়োজনে সামান্য লবণ। এবার ঢেঁড়সগুলো ভালোমতো ধুয়ে পরিষ্কারের পর চাকতি করে বা মাঝ বরাবর কাটুন। খণ্ডগুলো গ্লাসের পানিতে দিন। অন্তত ৮ ঘণ্টা বা ২৪ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। পরে খণ্ডগুলো উঠিয়ে নিন অথবা হাতে ভালো করে চেপে তুলে ফেলুন। এবার সামান্য মরিচ কুচি এবং চাইলে লবণ মিশিয়ে নেড়ে খান। ঢেঁড়স কেটে পানিতে সিদ্ধ করেও পান করতে পারেন এই পানীয়।

পুষ্টি উপাদান : ঢেঁড়সের পুরো পুষ্টিই মিলবে এর পানীয়তে। ১০০ গ্রাম ঢেঁড়সে মিলবে ৩৩ ক্যালোরি, ১.৯৩ গ্রাম প্রোটিন, ০.১৯ গ্রাম ফ্যাট, ৭.৪৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ৩.২ গ্রাম আঁশ, ১.৪৮ গ্রাম চিনি, ৩১.৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘কে’, ২৯৯ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, ৭ মিলিগ্রাম সোডিয়াম, ২৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’, ০.২ মিলিগ্রাম থিয়ামিন, ৫৭ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম, ৮২ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ০.২১৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘বি৬’, ৬০ মাইক্রোগ্রাম ফোলেট এবং ৩৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘এ’। সামান্য আয়রন, নিয়াসিন, ফসফরাস এবং কপারও মেলে এতে। বিভিন্ন উপকারিতা জেনে নিই।

ডায়াবেটিস : ২০১১ সালে ঢেঁড়সের খোসা ও বীজ থেকে পাউডার বানান বিজ্ঞানীরা। এটা ডায়াবেটিস রয়েছে এমন ইঁদুরের দেহে প্রয়োগ করা হয়। দেখা গেছে, এদের দেহে সুগারের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমছে। কাজেই এটা মানবদেহেও একই ঘটনা ঘটাবে। এর মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নতুন থেরাপির উদ্ভব ঘটতে পারে।

হৃদস্বাস্থ্য : উচ্চমাত্রার আঁশসমৃদ্ধ খাবার রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমায়। ঢেঁড়সে প্রচুর আঁশ আছে। কাজেই ঢেঁড়স ও এর পানীয় হৃদরোগ, স্ট্রোক ও স্থূলতার ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনে। ১৯-৩০ বছর বয়সী নারীদের প্রতিদিন ২৮ গ্রাম ও পুরুষের ৩৩.৬ গ্রাম আঁশযুক্ত খাবার দরকার। এক কাপ ঢেঁড়সে মেলে ৩.২ গ্রাম আঁশ।

গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো : ফোলেট এমন এক উপাদান যা গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের রক্ষণাবেক্ষণ করে। এর অভাবে গর্ভের শিশুর নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাঁরা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন তাঁদের জন্যও এটা উপকারী। কাজেই গর্ভবতী কিংবা নতুন মায়েদের পর্যাপ্ত ফোলেট পেতে প্রতিদিন ঢেঁড়সের পানি খাওয়া উচিত।

ক্যান্সার : ঢেঁড়সে ল্যাকটিন নামের প্রোটিন রয়েছে। ল্যাকটিন স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এক গবেষণায় দেখা যায়, ক্যান্সার আক্রান্ত কোষের বৃদ্ধি ৬৩ শতাংশ কমে এসেছে এবং ৭২ শতাংশ আক্রান্ত কোষ মরে গেছে। কাজেই ঢেঁড়স পানি খেলে স্তন, ফুসফুস, অগ্ন্যাশয়সহ বেশ কিছু ক্যান্সারের ঝুঁকি থেকে দূরে থাকা যাবে।

অস্টিওপরোসিস : ঢেঁড়স পানির ভিটাইমিন ‘কে’ হাড়কে ক্যালসিয়াম নিতে সহায়তা করে। তাই অস্টিওপরোসিস বা হাড়ক্ষয় থেকে রক্ষা পেতে হলে নিয়মিতভাবে পান করতে হবে এই পানীয়।

মেডিক্যাল নিউজ টুডে অবলম্বনে সাকিব সিকান্দার

মন্তব্য