kalerkantho

সংবাদ সম্মেলনে সিইসি

বাঘাইছড়ির হামলা আঞ্চলিক সমস্যার বহিঃপ্রকাশ

বিশেষ প্রতিনিধি   

২২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাঘাইছড়িতে হামলার ঘটনা পাহাড়ে দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক সমস্যার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। তিনি বলেছেন, ‘বাঘাইছড়ির বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে। নির্বাচনে যারা বিরোধিতা করেছে তাদের কেউ-ও এই কাজ করতে পারে বলে আমাদের ধারণা।’

রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে হামলার ঘটনা নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিইসি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফলসহ বাঘাইছড়িতে ফেরার পথে পাহাড়ের ওপর থেকে দুষ্কৃতকারীদের অতর্কিত গুলিবর্ষণে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ সাতজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হামলাকবলিতদের দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সহায়তায় দুটি হেলিকপ্টারযোগে আহতদের রাতেই চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরে কয়েকজনকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সাতজন ঢাকার সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সিইসি বলেন, কমিশন আহতদের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। অর্থ দিয়ে জীবনের মূল্য পরিশোধ হয় না। তার পরও কমিশনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের জন্য সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হবে এবং আহতদের অবস্থা অনুযায়ী আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে। কমিশন সব সময় তাদের পাশে থাকবে।

নুরুল হুদা বলেন, ‘পার্বত্য এলাকায় ভোটের সময় বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। দুর্গম এলাকায় যাতায়াতব্যবস্থাও ভালো থাকে না। সারা দেশে উপজেলা নির্বাচনে পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। যাতায়াত ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পার্বত্য এলাকায় সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনী মোতায়েন করা হয়। হামলার ঘটনায় এরই মধ্যে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে। কমিশন সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর রাখছে। ঘটনার দিন বিমানবাহিনী ও সেনাবাহিনী তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে। এ জন্য সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।’

হামলা সম্পর্কে সিইসি বলেন, ‘ঘটনার সময়ে বিজিবি সশস্ত্রভাবে দায়িত্বে ছিল। এগুলো চোরাগোপ্তা হামলা। এ ধরনের ঘটনা তাত্ক্ষণিক হিসাবের মধ্যে থাকে না। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আমরা সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছিলাম। সারা দিন ভোটে কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি। সার্বক্ষণিক টহলের কারণে তারা নির্বাচন ব্যাহত করতে পারেনি। রাতের অন্ধকারে পাহাড়ি অঞ্চলে সতর্কতার মধ্যেও এ ধরনের ঘটনা ঘটলে কিছু করার থাকে না।  আর ঘটনার সময় বিজিবি ছিল, পেছনের গাড়িতে সশস্ত্র পুলিশ ছিল। বিজিবির গাড়ি চলন্ত অবস্থায় থাকার কারণে একটু দূরে ছিল। পাহাড়ি অঞ্চলের সরু রাস্তায় ঘুরে আসাও সম্ভব নয়। পরিকল্পিত এসব হামলা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। ফলে এই সময়ের মধ্যে কাউন্টার হামলাও করা সম্ভব না। তবে পরে সামগ্রিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি ছিল না।’

নুরুল হুদা বলেন, গণতান্ত্রিক পন্থায় কেউ ভোট বর্জন করতেই পারে। কিন্তু বর্জনের পর এমন অবস্থা সৃষ্টি হবে, তা ধারণা করা যায় না। তবে এই দায় কার, সেটি এখনই বলা যাচ্ছে না। পাহাড়ি এলাকায় এর আগে কোন্দলের কারণে অনেক খুনাখুনি হয়েছে, অনেকের জীবন গেছে। একটা সময় দিনে-দুপুরে মানুষ হত্যা করা হতো।

সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, পাহাড়ে কয়েকটি গ্রুপ আছে। তারা সবাই এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়। সংস্কারপন্থীসহ তিনটি গ্রুপ খুব অ্যাকটিভ। চার দশক ধরেই সেখানে আঞ্চলিক বিভাজন রয়েছে।

মন্তব্য