kalerkantho

গাজীপুরে বকেয়া না দিয়ে তালা গার্মেন্টে, দিনভর শ্রমিক বিক্ষোভ

ভিন্ন ঘটনায় সোনারগাঁয় সড়ক অবরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর ও সোনারগাঁ প্রতিনিধি   

২২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গাজীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে ইন্ট্রামেক্স গার্মেন্টের প্রায় সাত হাজার শ্রমিক তিন সড়ক এলাকায় ঢাকা-গাজীপুর সড়ক অবরোধ করলে গতকাল বৃহস্পতিবার চান্দনা চৌরাস্তা থেকে শহরের শিববাড়ী মোড় পর্যন্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে সহকর্মীর নিহত হওয়ার এক গুজবে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁর চৈতী গার্মেন্টের শ্রমিকরা গতকাল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করলে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। এরপর সংঘর্ষে পুলিশসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশ-২-এর সিনিয়র এএসপি মো. মকবুল হোসেন বলেন, তাঁরা ইন্ট্রামেক্স গার্মেন্টের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাধানের চেষ্টা করছেন। বিকেল পর্যন্ত সাড়া মেলেনি। বকেয়া পরিশোধের বিষয়টি নিয়ে কারখানার মালিকপক্ষ এবং বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গাজীপুর সদর থানার ওসি সমীর চন্দ্র সূত্রধর বলেন, মালিক অর্থ সংকটের কারণে বেতন দিতে পারছেন না বলে দাবি করছেন। টাকার ব্যবস্থা করতে না পেরে কারখানা বন্ধের নোটিশ লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন। পুলিশ প্রথমে শ্রমিকদের বোঝানোর চেষ্টা করে। সাড়া না পাওয়ায় সন্ধ্যার দিকে ধাওয়া দিয়ে তাদের রাস্তা থেকে সরানো হয়।

কারখানার সহকারী ব্যবস্থাপক (উৎপাদন) মো. আবু তসলিম জানান, কর্মকর্তাদের ছয় মাসের এবং শ্রমিকদের তিন মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। শ্রমিকরা বলছেন, সর্বশেষ গত ৩ মার্চ মালিক জানান, ২০ মার্চ বুধবার দুই মাসের বেতন দেওয়া হবে। কিন্তু কর্মকর্তাদের কয়েকজন সকালে এসেও কিছুক্ষণ থেকে বেতন না দিয়ে চলে যান। গতকাল কারখানায় গিয়ে ফটকে তালা আর অনির্দিষ্টকালের জন্য গার্মেন্ট বন্ধের নোটিশ দেখে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার টিপুরদী এলাকায় গিয়ে জানা যায়, চৈতী গার্মেন্টে রিনা আক্তার (২৮) নামে এক শ্রমিকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবরে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করলে ছয় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এক ঘণ্টা যানজট লেগে থাকে। শ্রমিকরা বলছে, তারা শুনেছে রিনাকে নির্যাতন করে হাত-পা ও মুখ বেঁধে বাথরুমে ফেলে রাখা হয়েছে। এ দৃশ্য দেখে অন্য এক শ্রমিক অজ্ঞান হয়ে যায়। কারখানার উপমহাব্যবস্থাপক বদরুল আলম জানান, নিহত কিংবা আহত কিছুই হয়নি, এটা সাজানো। একটি গ্রুপ পরিকল্পিতভাবে কারখানার পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ) অঞ্চল খোরশেদ আলম জানান, শ্রমিকদের লাঠিপেটা করে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

মন্তব্য