kalerkantho

খিরু নদীর ওপর সেতু চায় এলাকাবাসী

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

২২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভালুকা উপজেলা হয়ে বয়ে যাওয়া খিরু নদীর এক তীর ঘেঁষে ভালুকা বাজার, সাবরেজিস্ট্রি অফিস, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ভালুকা মডেল থানা, ব্যাংক-বীমাসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ভালুকা পৌর এলাকার আংশিক সীমান্ত ছুঁয়ে চলা নদীর অন্য তীরে হালিমুন্নেছা চৌধুরাণী মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, দাখিল মাদরাসা, কেজি স্কুলসহ রয়েছে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

ভালুকা বাজারের ব্যবসায়ী, হাটুরে, শিক্ষার্থী ও নদীর দুই পারের বাসিন্দাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি অফিস ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ঘাট হয়ে যাতায়াত করে। এ ছাড়া একাধিক কেজি স্কুলের অসংখ্য শিশু শিক্ষার্থীও ওই ঘাট হয়ে যাওয়া-আসা করে। নদী পার হতে নানা বিড়ম্বনায় পড়ছে তারা।

স্থানীয় লোকজনের দাবি, তাদের সার্বক্ষণিক যাতায়তের সুবিধার্থে নদীর এ ঘাটে সেতু নির্মাণ করে দেওয়া হোক।

হালিমুন্নেছা চৌধুরাণী মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশরাত জাহান অন্নির বাড়ি উপজেলার খারুয়ালী গ্রামে। কালের কণ্ঠকে সে বলে, বর্ষাকালে নৌকায়, নয়তো ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অথবা ভালুকা-মল্লিকবাড়ী সড়ক হয়ে দেড়-দুই কিলোমিটার পথ ঘুরে তাদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে নদীর ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়। কিন্তু বর্ষাকালে ডিঙি নৌকায় করে নদী পার হয়ে যাওয়া-আসা করতে নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তাদের।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ারা নীনা কালের কণ্ঠকে বলেন, তাঁর বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক হাজার দুই শর বেশি। এর মধ্যে সাড়ে চার থেকে পাঁচ শ শিক্ষার্থী খিরু নদীর ওই ঘাট হয়ে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। অন্যদের বিকল্প থাকলেও প্রায় তিন শ শিক্ষার্থীর ওই ঘাট ছাড়া বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার আর কোনো বিকল্প নেই। বর্ষায় নৌকাডুবির একাধিক ঘটনা এর মধ্যে ঘটেছে। যদিও কারো মৃত্যু হয়নি। কিন্তু ভবিষ্যতে হবে না এমন নিশ্চয়তা নেই।

উপজেলার ধামশুর গ্রামের কুদরত আলী জানান, ভালুকা-মল্লিকবাড়ী সড়কে খিরু নদীর ওপর সেতু হওয়ার পর ঘাটটি আর ইজারা দেয় না জেলা প্রশাসন। তাঁরা পাঁচজন মিলে লোকজনের নদী পারাপারের ব্যবস্থা করেছেন।

ভালুকা বাজারের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের বাড়িও ধামশুর গ্রামে। তিনি বলেন, ‘আমাকে প্রতিদিন কমপক্ষে চারবার খিরু নদী পার হতে হয় এবং নদী পারাপারের জন্য প্রতি মাসে আমাকে গুনতে হয় কমপক্ষে ছয় শ টাকা।’

ভালুকা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোখলেছুর রহমান বলেন, একটি সেতু নির্মাণ খুব জরুরি হয়ে পড়েছে।

ভালুকা পৌরসভার মেয়র ডা. এ কে এম মেজবাহ উদ্দিন কাইয়ুম বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের মিউনিসিপ্যাল গভর্ন্যান্স সার্ভিসেস প্রজেক্টের আওতায় সেতু তৈরির একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন করানোর জন্য চেষ্টা চলছে।

 

মন্তব্য