kalerkantho

ঠোঁট-তালুকাটা নবজাতককে জঙ্গলে ফেলে গেল স্বজন!

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি   

২২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বুধবার রাত পৌনে ১০টা। বগুড়া সরকারি আজিজুল হক বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ক্যাম্পাসে হাঁটাহাঁটি করছিলেন দুই বন্ধু। হঠাৎ শিশুর কান্না। খুঁজতে খুঁজতে শহীদ মিনারের অদূরে রেললাইনের পাশে জঙ্গলের ভেতর থেকে কান্নার আওয়াজ আসছে বলে নিশ্চিত হন তাঁরা। সেখানে গিয়ে মোবাইল ফোনের টর্চের আলো ফেলতেই আঁতকে ওঠেন তাঁরা। গামছায় পেঁচানো সদ্যঃপ্রসূত এক নবজাতক দেখে প্রথমে ভয়ই পেয়ে যান তাঁরা।

কী করবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না দুই বন্ধু আব্দুল্লাহ ও শামীম রেজা। তাঁরা নিজেদের পরনের গেঞ্জি খুলে শিশুটির গায়ে জড়িয়ে দেন। একপর্যায়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। তাঁদের মাধ্যমে স্টেডিয়াম ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা সেখানে পৌঁছেন। পরে তাঁদের সহায়তায় নবজাতকটি উদ্ধার করে তাঁরা বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। সেখানে নেওয়ার পর দেখা যায়, শিশুটির ঠোঁট ও তালু কাটা। ধারণা করা হচ্ছে, ঠোঁট ও তালু কাটা থাকার কারণেই কোনো পরিবার এই জঘন্য কাজটি করে থাকতে পারে।

শিশুটিকে উদ্ধারকারী দুই বন্ধু আব্দুল্লাহ ও শামীম রেজা বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে সদ্য মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আব্দুল্লাহর বাড়ি বগুড়ার ধুনট উপজেলার দেউরিয়া গ্রামে। শামীম রেজার বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলার কাফিহারা গ্রামে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে শজিমেক হাসপাতালের শিশু বিভাগে গেলে এই দুই বন্ধুকে নবজাতক শিশুটির দিকে মায়াবী দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় তারা এই প্রতিবেদকের কাছে শিশুটিকে খুঁজে পাওয়ার কথা জানান।

শিশুটি নবজাতক ওয়ার্ডের ইউনিট ওয়ান/সিতে ভর্তি রয়েছে। সে শিশু রোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এম এ মান্নানের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন।

শিশু বিভাগের ডিউটি অফিসার ডা. এহসানুল হক মাসুম জানান, নবজাতক শিশুটি মেয়ে। জন্মগতভাবে শিশুটির ঠোঁট কাটা। তবে শিশুটি সুস্থ রয়েছে।

স্টেডিয়াম ফাঁড়ির ইনচার্জ মোস্তাফিজ হাসান জানান, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে নবজাতক শিশুটিকে উদ্ধার করে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জন্মের পরপরই নাড়ি কেটে শিশুটিকে জঙ্গলে ফেলে রাখা হয়। স্থানীয় খান্দার এলাকার পারভীন বেগম নামের এক মহিলা হাসপাতালে শিশুটিকে দেখাশোনা করছেন।

মেডিক্যাল ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুল আজিজ বলেন, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর অনেক দম্পতি শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার জন্য হাসপাতালে আসছে, কিন্তু শিশুটির ঠোঁট কাটা থাকায় কেউ দত্তক নিচ্ছে না।

হাসপাতালে শিশুটির চিকিৎসায় সংশ্লিষ্ট সবাই ধারণা করছে, শিশুটির ঠোঁট ও তালু কাটা থাকায় সামাজিক হেনস্তা ও অবহেলা থেকে রক্ষা পেতে তাকে জঙ্গলে ফেলে দিয়ে থাকতে পারে কোনো পরিবার। তবে অন্য কোনো কারণেও শিশুটিকে ফেলা হতে পারে বলে তাদের কেউ কেউ মনে করে। ঠিক কী কারণে এবং কারা শিশুটিকে ফেলে গেছে তা খুঁজে বের করা হবে কি না তা নিয়ে সবার মধ্যেই সংশয় দেখা গেল।

মন্তব্য