kalerkantho

বাঘাইছড়ি হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী

খুব কাছ থেকে হামলা চালায় তিন এসএমজিধারী

ঘটনাস্থলে তদন্ত কমিটি, প্রতিবেদন জমার সময় বাড়তে পারে

ফজলে এলাহী ও জাকির হোসেন, রাঙামাটি   

২২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাঘাইছড়ির ওই স্থানটায় তখন ছিল আবছা আলো-আঁধারি। সামনে ছিল পাহারায় নিয়োজিত বিজিবির গাড়ি। চার গাড়ির বহরের সর্বশেষ গাড়িতে ছিলেন আনসার প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) শামশুজ্জামান। তিনি হঠাৎ দেখেন, সড়কের বাঁ পাশে সশস্ত্র তিনজন হামলাকারী। সবার পরনে জলপাই রঙের পোশাক এবং তিনজনের হাতেই এসএমজি। তিনজনের মধ্য থেকে একজন গুলি ছুড়তে ছুড়তে সড়কের ডান পাশে চলে যায়। শামশুজ্জামান ঘটনার ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে বাঁশিতে হুইসেল বাজিয়ে সমানের গাড়িগুলোকে দ্রুত সামনের দিকে চলে যেতে ইঙ্গিত দেন। শামশুজ্জামান সাংবাদিকের উপস্থিতিতে গতকাল তদন্ত কমিটিকে বলেন, ‘আক্রমণের সময় সামনের বিজিবির গাড়িটিও সামনের দিকেই এগিয়ে যেতে থাকে। সেই গাড়ির সামনের গাড়ির ছাদে ছিলেন আনসারের আরেক কমান্ডার, তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে গাড়ির ছাদেই নিহত হন।’

পাহারায় নিয়োজিত বিজিবির টিমের প্রধান ছিলেন হাবিলদার শামশুল হক। তিনি তদন্ত কমিটিকে জানান, গুলির শব্দ তিনি শুনেছিলেন । কিন্তু এ রকম সশস্ত্র আক্রমণের সময় গাড়ি থামালে হতাহতের সংখ্যা আরো বেড়ে যেত। কারণ আক্রমণকারীরা পরিকল্পিতভাবে নিরাপদ স্থান বেছে নিয়ে অ্যামবুশে ছিল। তা ছাড়া আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি ছিল। এ জন্যই তাঁরা না থেমে এগিয়ে যান।

যা দেখল তদন্ত কমিটি

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার গঠিত সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গতকাল সকাল ১১টায় ঘটনাস্থল দীঘিনালা-বাঘাইছড়ি সড়কের নয়মাইল এলাকা ঘুরে দেখে। কমিটির সদস্যরা আক্রান্ত গাড়ির বহরে থাকা বিজিবি ও আনসার সদস্য, গাড়ির চালকসহ বাঘাইছড়ি উপজেলা হাসপাতালে আহত চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং নির্বাচনসংশ্লিষ্টদের সঙ্গেও কথা বলেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে কমিটির প্রধান চট্টগ্রাম স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক দীপক চক্রবর্তী সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সন্ত্রাসীরা হত্যার উদ্দেশ্যে তাদের সুবিধাজনক অবস্থানে অ্যামবুশ নিয়ে ছিল।’ তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে ঘটনার কারণ, জানমালের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং এ ধরনের ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে না হয়; সে জন্য করণীয় কী, তা সুপারিশ করা। তিনি জানান, আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যেই তদন্ত রিপোর্ট উপস্থাপন করার কথা রয়েছে। তবে একটি ভালো রিপোর্ট জমা দেওয়ার স্বার্থে প্রয়োজন হলে আরো সময় চাওয়া হতে পারে।

তদন্ত কমিটিতে আরো আছেন চট্টগ্রাম পুলিশের অ্যাডিশনাল ডিআইজি (অপরাধ বিভাগ) আবুল ফয়েজ, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদেক হোসেন, রাঙামাটির এডিএম নজরুল ইসলাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য আশীষ কুমার বড়ুয়া, ৩০ আনসার ব্যাটালিয়নের পরিচালক মো. নুরুল আমিন এবং ২৭ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহবুবুল আলম।

বাঘাইছড়ি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন আহত আনসার সদস্য শারমিন আক্তার (২১)। শারমিন জানান, এখনো সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা তাঁকে তাড়া করছে। শারমিন ও চিকিৎসাধীন আরেক প্রত্যক্ষদর্শী মাদরাসা শিক্ষক হুমায়ুন কবীর দুজনই জানান, কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি প্রায় ছিলই না। সোমবার বাঘাইছড়ি হামলায় নির্বাচনকর্মীসহ সাতজনের প্রাণহানি ঘটে।

মন্তব্য