kalerkantho

পায়েল হত্যা মামলা

ভুয়া জিম্মাদার, তিন আসামির জামিন বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. সাইদুর রহমান পায়েল হত্যা মামলার তিন আসামি হানিফ পরিবহনের বাসচালক, সুপারভাইজার ও হেলপারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। তারা ভুয়া জিম্মাদার দেখিয়ে আদালত থেকে জামিন নিয়েছিল। এ ঘটনায় আদালতের সঙ্গে প্রতারণার দায়ে আসামি জামিন বাতিলের পাশাপাশি তাদের আইনজীবীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনজীবী সমিতিকে অনুরোধ করেছেন আদালত।

গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আবদুল হালিম এসব আদেশ দেন। আগামী ২৭ মার্চ মামলার অভিযোগ গঠনের জন্য পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।

ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আইয়ুব খান বলেন, তিন আসামি ভুয়া জিম্মাদার দাখিল করে জামিন নেয়। বিষয়টি গতকাল আদালতের নজরে আনা হলে প্রতারণার দায়ে তাদের জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে আসামিদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফাহমিদা আফসানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনজীবী সমিতির কাছে আদেশের কপি পাঠান আদালত।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে আদালতকে জানাতে হবে তাঁর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হলো।

এ বিষয়ে আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আইয়ুব খান বলেন, আদালতের আদেশ পেলে বিষয়টি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা আসামিরা হলো হানিফ পরিবহনের বাসচালক জামাল হোসেন, সুপারভাইজার মো. জনি ও হেলপার মো. ফয়সাল হোসেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ মার্চ আসামিরা চট্টগ্রাম দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানীয় দুই ব্যক্তির জিম্মায় ২০ হাজার টাকা জামিননামা দাখিল করে। আদালত তা গ্রহণ করে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। দুই জিম্মাদারের মধ্যে একজন শিউলি বেগম, যার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ১৯৯১২৬৯৩৬২২০০০২৮৮। কিন্তু তাঁর পরিচয়পত্রে একজন পুরুষের ছবি রয়েছে। এতে সন্দেহ হয় আদালতের। এ ঘটনাকে আদালতের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে মর্মে আদেশ দেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক।

উল্লেখ্য, গত বছর ২১ জুলাই রাতে দুই বন্ধুর সঙ্গে হানিফ পরিবহনের একটি বাসে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় রওনা হওয়ার পর নিখোঁজ হন পায়েল। পরদিন মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভাটেরচর সেতুর নিচের খাল থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর বাসের সুপারভাইজার জনিকে ঢাকার মতিঝিল এবং চালক জামাল হোসেন ও তার সহকারী ফয়সাল হোসেনকে আরামবাগ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মন্তব্য