kalerkantho

মন্ত্রিসভায় তিন আইনের খসড়া অনুমোদন

বিশেষ প্রতিনিধি   

১৯ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাংলাদেশ সুগার ক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট আইন-২০১৯, মৎস্য ও মৎস্যপণ্য (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৯ এবং বাংলাদেশ বাতিঘর আইন-২০১৯ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এ বৈঠকে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে উগ্র এক যুবকের গুলিতে হতাহতের ঘটনায় শোক ও নিন্দা জানিয়েছে মন্ত্রিসভা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার তেজগাঁওয়ে তাঁর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকের শুরুতে শোক ও নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদসচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ তথ্য জানান।

মন্ত্রিপরিষদসচিব জানান, নিউজিল্যান্ডে দুষ্কৃতকারীদের হামলায় বাংলাদেশের পাঁচজনসহ ৫০ জন মুসল্লি নিহত হয়েছেন। তাঁদের নৃসংশভাবে হত্যা করা হয়েছে, এটা নিয়ে মন্ত্রিসভায় শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। একই সঙ্গে এ হামলার ঘটনায় মন্ত্রিসভা নিন্দা প্রস্তাবও গ্রহণ করেছে এবং যাঁরা নিহত হয়েছেন তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়েছে। যাঁরা আহত হয়েছেন তাঁদের সুস্থতা কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানিয়েছে মন্ত্রিসভা।

মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, ১৯৯৬ সালের ইক্ষু গবেষণা আইনের মাধ্যমে এই সেক্টরটি এত দিন চলেছে। আগে শুধু ইক্ষু দিয়ে চিনি উৎপাদন করা হতো। এখন ইক্ষু ছাড়াও তাল, গোলপাতা ইত্যাদি দিয়েও চিনি উৎপাদিত হচ্ছে। যদি শুধু ইক্ষু আইন রাখা হয়, তাহলে অন্য উপাদানগুলো নিয়ে গবেষণা করা হবে না। সুগার ক্রপ আইনের মাধ্যমে যেসব শস্য দিয়ে চিনি তৈরি হয়, তার সব কিছু নিয়ে গবেষণা করা হবে। এ কারণে এর নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এই আইনে বিদ্যমান কমিটিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের  একজন প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া মৎস্য ও মৎস্যপণ্য (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৯ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদসচিব জানান, ১৯৮৩ সালের অধ্যাদেশের মাধ্যমে এ সেক্টরটি এত দিন পরিচালিত হয়েছে। এটি সামরিক সরকারের সময় করা। অধ্যাদেশটি ছিল ইংরেজিতে। উচ্চ আদালতের অনুশাসন অনুযায়ী, সব অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করার বাধ্যবাধকতা থাকায় এটিকে আইনে পরিণত করা হয়েছে।

তিনি জানান, এ আইনে মৎস্য খাতের বিস্তারিত সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। মৎস্য পণ্যে কোনো কিছুর মিশ্রণ ও ভেজাল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এটি অমান্য করলে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এর আগে ছিল তিন মাসের দণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা। তিনি আরো জানান, মাছ আমদানির ক্ষেত্রে লাইসেন্সের প্রয়োজন হবে। এই আইনে লাইসেন্স ব্যতিরেকে মৎস্যজাতীয় প্রাণী আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদসচিব জানান, বাংলাদেশ বাতিঘর আইন-২০১৯ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

মন্তব্য