kalerkantho

ডা. রাজনের রহস্যজনক মৃত্যু

হত্যার সন্দেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হত্যার সন্দেহ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেন্টালের সহকারী অধ্যাপক ডা. রাজন কর্মকারের রহস্যজনক মৃত্যুর পর তাঁর লাশের ময়নাতদন্ত করিয়েছে পুলিশ। গতকাল সোমবার রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাজনের ময়নাতদন্ত শেষে সৎকারের জন্য লাশ গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীতে নেওয়া হয়েছে। রাজনের স্বজনরা তাঁর শরীরে আঘাতে চিহ্ন আছে বলে দাবি করলেও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। রাজনের ভিসেরা পরীক্ষাসহ সব দিক বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন তৈরি করতে এক মাস সময় লাগবে বলে জানান তাঁরা। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, হত্যার সন্দেহ বা মৃত্যুর কারণ যাচাই করতে ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ পাঠানো হয়েছে। হত্যার আলামত পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন তাঁরা।

এদিকে গতকালও রাজনের স্বজন ও সহকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, আক্রান্ত হওয়ার পর যথাসময়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়নি রাজনকে। একজন চিকিৎসক হয়েও তিনি এ অধিকার থেকে  বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করেন তাঁরা।

গতকাল সোমবার সকাল ১১টায় রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ডা. রাজন কর্মকারের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ফরেনসিক বিভাগের অধ্যাপক ডা. এ এম সেলিম রেজা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা পোস্টমর্টেমের নমুনা সংগ্রহ করে ভিসেরা ও কেমিক্যাল অ্যানালিসিসের জন্য সিডিআইডির ল্যাবে পাঠিয়েছি। এ ছাড়া হার্টের হিস্টোপ্যাথলজি করা হবে আমাদের কলেজের ল্যাবে। সব মিলিয়ে পোস্টমর্টেমের চূড়ান্ত রিপোর্ট পেতে মাসখানেক সময় লেগে যেতে পারে।

এদিকে  সহকর্মী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোসার্জারির সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহনেওয়াজ বারী কালের কণ্ঠকে জানান, পোস্টমর্টেম শেষে রাজনের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তাঁর কর্মস্থল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদসহ সহকর্মীরা মরদেহে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানান। পরে বিকেল ৩টায় মরদেহ তাঁর নোয়াখালীর গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে নিয়ে রওনা হয় স্বজনরা।

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার সাংবাদিকদের বলেন, মৃত্যুর কারণ যাচাই করতে ময়নাতদন্ত হয়েছে। রিপোর্টে হত্যার আলামত পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গতকাল সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে লাশ গ্রহণ করতে গিয়ে রাজনের মামা সুজন কর্মকার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘খবর পেয়েও আমি বিশ্বাস করছিলাম রাজন মারা যায়নি। তাকে বাঁচাতে পারব। মানুষকে তো আইসিইউতে রাখে, লাইফ সাপোর্ট দেয়। কোমায় যায়। সে একজন ডাক্তার। স্কয়ার টু বাসা পাঁচ মিনিটের রাস্তা। ওখানে সে একটা ফ্যাসিলিটিজ তো পাবে। টাকা-পয়সা তো বড় বিষয় না। কিন্তু ওটুকুও সে পায়নি। আমার মনে হয়, সে বঞ্চিত হয়েছে। সে তার রাইটস থেকে বঞ্চিত হয়েছে।’

গত রবিবারও রাজনের সহকর্মী এবং স্বজনরা একইভাবে সন্দেহ পোষণ করে বলেন, তাঁকে যথাসময়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। তাঁরা রাজনের পিঠে আঘাতের চিহ্ন আছে বলে দাবি করেন। তবে গতকাল পুলিশ ও ময়নাতদন্তকারীরা এ ধরনের কোনো তথ্য নিশ্চিত করেননি।

এদিকে গতকাল ময়নাতদন্তের সময় স্বজনদের ছবি তুলতে গেলে এক সাংবাদিককে হেনস্তা করে রাজনের স্ত্রীর পক্ষের লোকজন। এ সময় ওই সাংবাদিকের মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেওয়া হয়। পরে শেরেবাংলানগর থানায় নিয়ে ছবি ডিলিট করে তাঁর ফোনটি ফেরত দেওয়া হয়। থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, মন্ত্রী মহোদয়ের আত্মীয়রা (খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার) তাঁকে ছবি তোলার কারণে ধরেছিল। পরে মোবাইল ফোন দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, ডা. রাজন কর্মকার ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। তাঁর স্ত্রী একই প্রতিষ্ঠানের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. কৃষ্ণা রানী মজুমদার রুপা। ডা. কৃষ্ণার বাবা সরকারের খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। শনিবার শেষ রাতে হঠাৎ করেই মারা যান ডা. রাজন। এই মৃত্যু অস্বাভাবিক বলে সন্দেহ করছেন তাঁর স্বজন ও চিকিৎসক বন্ধুরা।

মন্তব্য