kalerkantho

পঞ্চগড়ে রেলের জমি চলছে বেচাকেনা

লুৎফর রহমান, পঞ্চগড়   

১৮ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পঞ্চগড়ে রেলের জমি চলছে বেচাকেনা

রেলওয়ের জমির দখল পাকাপোক্ত করতে সীমানাপ্রাচীর দিচ্ছে ক্রেতারা। ছবি : কালের কণ্ঠ

পঞ্চগড়ে রেলওয়ের জমি জাল দলিল করে বেচাকেনার অভিযোগ উঠেছে। রেলওয়ে কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবনের জায়গাসহ ৮৫ শতাংশ জমি ব্যক্তিমালিকানাধীন দাবি করে স্থানীয় এক ব্যক্তি প্রায় ৯৫ লাখ টাকায় তা বিক্রি করে দিয়েছেন। ক্রেতারা দখল পাকাপোক্ত করতে ওই জমিতে সীমানাপ্রাচীরও দিয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে রেল কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি সীমানাপ্রাচীর ভেঙে দিলেও তাদের কার্যক্রম থেমে নেই। রেলের ভূসম্পত্তি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৬২ থেকে ১৯৬৭ সালে রেলওয়ে পঞ্চগড়ের ধাক্কামারা এলাকার বিভিন্ন মৌজার প্রায় ৬০ একর জমি অধিগ্রহণ করে। তৎকালীন জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে জমিদাতাদের ক্ষতিপূরণও পরিশোধ করা হয়। অধিগ্রহণ করার পর বেশ কয়েক বছর জমিগুলো পতিত থাকলেও এর পর থেকে শুরু হয় দখল। এর মধ্যে কেউ শর্ত সাপেক্ষে রেলের পতিত জমি লিজ নিয়ে ব্যবহার করছে। কেউ কেউ লিজ নিয়ে অস্থায়ীভাবে বাড়ি করে আছে। আবার অনেকে জাল দলিল করে রেলের জমি দিব্যি কেনাবেচা করছে। জানা যায়, রেলওয়ে কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবন থাকা জায়গাটিও এরই মধ্যে বেচাকেনা হয়েছে। আলিম উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি ওই জমি অধিগ্রহণের সময় রেলওয়েকে দেন। সম্প্রতি রেলস্টেশনসংলগ্ন ঘাটিয়াপাড়া এলাকার আশরাফুল ইসলাম হঠাৎ জমিটি নিজের কেনা দাবি করে ৭৫ শতাংশ জমি চারজনের কাছে প্রায় ৯৫ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। এর মধ্যে বোদা উপজেলার ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল জুবেরী ৩০ শতাংশ, আটোয়ারীর মির্জাপুর এলাকার আরিফুল ইসলাম ৩৭ শতাংশ, পঞ্চগড় সদর উপজেলার ব্যারিস্টার বাজার এলাকার মোস্তাফিজুর রহমান ৪ শতাংশ ও ঘাটিয়াপাড়া এলাকার রিক্তা বানু ৪ শতাংশ জমি কিনেছেন। বাকি ১০ শতাংশ এখনো আশরাফুলের দখলেই আছে।  রেলের জমি হওয়ায় বেচাকেনাটাও বেশ গোপনেই হয়েছে। এরপর ক্রেতারা জমির দখল নিতে শুরু করলেই বিষয়টি সবার সামনে উঠে আসে। ব্যাংক কর্মকর্তা জুবেরী লোকজন দিয়ে তাঁর অংশটিতে পাকা প্রাচীর তুলতে শুরু করেন। শুরুতে স্থানীয় লোকজন প্রতিবাদ করলে তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেয় ক্রেতারা। এমনকি দীর্ঘদিন ধরে রেলের জমিতে লিজ নিয়ে বসবাস করে আসা ব্যক্তিদের বাড়ির উঠানেও প্রাচীর তোলে।

পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘রেলের জমি সংক্রান্ত বিষয়গুলো ভূসম্পত্তি বিভাগ দেখে। তাই আমরা বিষয়টি অবহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের জানিয়েছি।’

মন্তব্য