kalerkantho

মূল হোতা ঢাকায় গ্রেপ্তার

দুধের শিশুকে মেরেও মুক্তিপণ দাবি

বাগেরহাট ও মোরেলগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৮ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুধের শিশুকে মেরেও মুক্তিপণ দাবি

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে মায়ের কোল থেকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত আড়াই মাস বয়সী সেই শিশুর লাশ মিলেছে। অপহরণের ছয় দিন পর গতকাল রবিবার দুপুরে উপজেলার বিশারীঘাট এলাকায় মাছের ঘেরের টয়লেট থেকে শিশু আব্দুল্লাহর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আব্দুল্লাহ একই এলাকার দলিল লেখক সিরাজুল ইসলাম সোহাগ হাওলাদারের ছেলে।

এর আগে গত শনিবার অপহরণকারীচক্রের মূল হোতা হৃদয় ওরফে রাহাত চাপরাশীকে (২২) প্রযুক্তির সাহায্যে ঢাকার কল্যাণপুর থেকে আটক করে পুলিশ। তাঁর দেওয়া তথ্য মতে গতকাল ঘটনাস্থল থেকে আব্দুল্লাহর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান, গোয়েন্দা (ডিবি) ও থানা পুলিশ উপস্থিত ছিলেন। আটক হওয়া হৃদয় একই উপজেলার গুলিশাখালী গ্রামের মোয়াজ্জেম হোসেন চাপরাশীর ছেলে।

মোরেলগঞ্জ থানার ওসি কে এম আজিজুল ইসলাম জানান, জিজ্ঞাসাবাদে হৃদয় স্বীকার করেছেন, মুক্তিপণের দাবিতে শিশুটিকে অপহরণ করেন তাঁরা। দফায় দফায় মোবাইল ফোনে শিশুটির বাবার কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। শিশুটি কান্না শুরু করলে গলা টিপে তাকে হত্যার পর রাস্তার পাশে মাছের ঘেরের টয়লেটে ফেলে পালিয়ে যান।

জেলা পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায় জানান, শিশুটিকে অপহরণের পর যে ছয়জনকে আটক করা হয় তাঁদের দেওয়া তথ্য মতে হৃদয়কে শনিবার ঢাকা থেকে পুলিশের বিভিন্ন সংস্থা অভিযান চালিয়ে আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে হৃদয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশের ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। হৃদয়কে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন জানানো হবে।

আব্দুল্লাহর বাবা সোহাগ বলেন, ‘প্রথমবার অপহরণকারীরা ১০ লাখ ও পরে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল।’

শিশুটির মা রেশমা বেগম বলেন, ‘দুধ খেতে খেতে ছেলে কোলের মধ্যে ঘুমিয়ে ছিল। হঠাৎ ঘুম ভাঙার পর ছেলেকে আর খুঁজে পাইনি। আদরের সন্তানকে উদ্ধারের জন্য সবার কাছে দাবি করেছিলাম। কিন্তু ছেলেকে জীবিত নয়, মৃত পেলাম।’ 

প্রসঙ্গত, গত ১০ মার্চ রাতে অসুস্থ আব্দুল্লাহকে ওষুধ খাওয়ানোর পর সে দুধ খেতে খেতে মায়ের কোলে ঘুমিয়ে পড়েছিল। ভোরে (১১ মার্চ) অপহরণকারীরা সোহাগের ঘরের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে তাঁর স্ত্রীর কোল থেকে আব্দুল্লাহকে অপহরণ করে। এ সময় তাঁরা সোহাগের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে যান। পরে অপহরণকারীরা শিশুটির চাচার মোবাইল ফোনে কল দিয়ে মুক্তিপণ দাবি করেন। এ ঘটনায় সোহাগ অপহরণ ও মুক্তিপণের অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ গত বুধবার হৃদয়ের মা নাছিমা বেগম ও বোন (বয়স কম হওয়ায় নাম প্রকাশ করা হলো না), মহিউদ্দিন চাপরাশী, মহিউদ্দিনের আত্মীয় ফায়জুল চাপরাশী, দেলোয়ার হোসেন এবং রুবেলকে আটক করে। এ ছাড়া হৃদয়ের বাড়ি থেকে মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল, গ্রিল কাটার যন্ত্রপাতি ও গ্যাস পাইপ উদ্ধার করা হয়েছে।

মন্তব্য