kalerkantho

চট্টগ্রাম বন্দর

কার ক্যারিয়ার না চালিয়েই ভাড়া আদায়!

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

১৮ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি করা গাড়ি নিরাপদে পরিবহনের জন্য ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো কেনা হয় কার ক্যারিয়ার। এটি দিয়ে খুব সহজেই জাহাজ থেকে কার শেডে গাড়ি পরিবহনের কথা। তবে ক্যারিয়ার কেনার পর দীর্ঘ সময় পেরোলেও সেটির ব্যবহার শুরু হয়নি। তবুও আদায় করা হচ্ছে ‘ক্যারিয়ার চার্জ’। অবশ্য এ ক্ষেত্রে চালক দিয়ে শেডে গাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি করা গাড়ি রাখা হতো খোলা আকাশের নিচে। ফলে ঝড়-বৃষ্টি-রোদে পুড়ে আমদানীকৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতো, চুরি হতো গাড়ির মূল্যবান যন্ত্রাংশ। এ পরিস্থিতি উত্তরণে বন্দরের এক কিলোমিটার দূরে গাড়ি রাখার আধুনিক একটি শেড তৈরি করা হয়। ২০১৭ সালের মে মাসে সেটি চালু হয়। বন্দর স্টেডিয়ামের সামনে পাঁচ একর জমিতে ২৪ কোটি টাকায় তৈরি এই শেডে একসঙ্গে ৯০০ গাড়ি নিরাপদে রাখা যায়। আর জাহাজ থেকে গাড়ি নামিয়ে শেডে পৌঁছানোর জন্য কেনা হয় দুটি ‘কার ক্যারিয়ার’। দ্বিতল এ কার ক্যারিয়ারে একসঙ্গে ছয়টি গাড়ি পরিবহনের সুযোগ আছে। ২০১৭ সালে ক্যারিয়ারটি সংযোজনের পর এখন পর্যন্ত সেটি চালু করেনি বন্দর কর্তৃপক্ষ। আমদানি করা গাড়ি ক্যারিয়ারে না নিয়ে চালক দিয়ে চালিয়ে শেডে নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি গাড়ির জন্য ৭০০ টাকা করে চার্জ আদায় করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

গাড়ি আমদানিকারক ম্যাক্সিম কারের কর্ণধার সুজাউদ্দিন মামুন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নিরাপদে পরিবহনের জন্য কার ক্যারিয়ারে গাড়ি পরিবহনের কথা। কিন্তু এত টাকা চার্জ আদায় করার পরও ক্যারিয়ারে না নিয়ে পৃথকভাবে চালক দিয়ে চালিয়ে শেডে নেওয়া হচ্ছে। এতে গাড়ি যদি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বা মাঝপথে উধাও হয়ে যায়—এর ক্ষতিপূরণ বা দায় কে নেবে?’

জানতে চাইলে বন্দরের প্রধান প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) আমিনুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে পরিচালনার জন্য বারভিডার সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় কার ক্যারিয়ার বন্ধ রাখা হয়েছে।’ ক্যারিয়ার না চালিয়েই ভাড়া কেন নেওয়া হচ্ছে—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই।’

মন্তব্য