kalerkantho

খাদ্যমন্ত্রীর জামাতা ডা. রাজনের মৃত্যু নিয়ে রহস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খাদ্যমন্ত্রীর জামাতা ডা. রাজনের মৃত্যু নিয়ে রহস্য

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ডেন্টাল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও খাদ্যমন্ত্রী সাধন মজুমদারের জামাতা ডা. রাজন কর্মকারের (৩৯) মৃত্যুকে তাঁর স্বজন ও সহকর্মীরা রহস্যজনক বলে দাবি করেছেন। শনিবার মধ্যরাত থেকে গতকাল রবিবার ভোর ৪টার আগে যেকোনো সময় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলেও দাবি তাঁদের। এ রহস্য উদ্ঘাটনে সৎকারের আগে তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের দাবি জানিয়েছে স্বজনরা।

গত রাতে ডা. রাজনের মামা বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলানগর থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর অভিযোগ দাখিল করেছেন।

চিকিৎসক রাজনের স্বজন ও সহকর্মীদের দাবি, দাম্পত্য কলহের জের ধরে অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে এ চিকিৎসকের। এর আগে এক দফা স্ত্রীর সঙ্গে কলহের জের ধরে আহত হয়ে রাজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন বলেও দাবি করেছেন কেউ কেউ। এমনকি শনিবার মধ্যরাতের পর রাজনের স্ত্রী ডা. তৃষ্ণা মজুমদার তাঁর শাশুড়িকে (রাজনের মা) ফোন করে স্বামী-শাশুড়ি ও তিনি—তিনজনেই মরবেন বলে হুমকি দেওয়ার কথাও বলেছেন একাধিক স্বজন ও সহকর্মী।

এদিকে ঘটনার পর খাদ্যমন্ত্রী সাধন মজুমদার অসুস্থ হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলেও জানা গেছে একাধিক সূত্রে।

ডা. রাজনের স্বজনরা জানায়, গতকাল ভোর ৪টার দিকে রাজধানীর ফার্মগেটের ইন্দিরা রোডের বাসা থেকে রাজনকে স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাজন বিএসএমএমইউর ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন। তাঁর স্ত্রী তৃষ্ণা কর্মকার বিএসএমএমইউর কলরেকটাল সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। রাজন কর্মকার চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের অষ্টম ব্যাচের (বিডিএস) ছাত্র ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের এখলাসপুরে। তাঁর বাবার নাম সুনীল কর্মকার।

বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক কনক কান্তি বড়ুয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সকালে চিকিৎসক রাজনের মৃত্যুর খবর শুনেছি। তিনি ও তাঁর স্ত্রী তৃষ্ণা মজুমদার আমাদের হাসপাতালের চিকিৎসক। তবে রাজনের কী কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা জানতে পারিনি।’

শেরেবাংলানগর থানার ওসি জানে আলম জানান, ‘মৃত রাজনের মামা বাদী হয়ে গত রাতে একটি অপমৃত্যুর অভিযোগ দাখিল করেছেন। আমরা বিভিন্ন কাগজপত্র দেখেছি। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। তাঁর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।’

রাজনের মরদেহ রাতে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে এবং আজ সোমবার ময়নাতদন্ত হবে বলে ওই হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

মন্তব্য