kalerkantho

ভিআইপির জন্য এক ঘণ্টা নদীতে ভাসল ফেরির যাত্রীরা

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মো. আব্দুল্লাহ আসবেন তাই এক ঘণ্টা বাড়তি ফেরিতে বসে নদীতেই ভাসতে হলো যাত্রীদের। গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে এভাবে ভোগান্তির শিকার হন ‘ফেরি ফরিদপুর’-এর যাত্রীরা।

ওই ফেরির এক যাত্রী মো. ইব্রাহিম ফোন করে এই প্রতিবেদককে জানান, তিনি ঝালকাঠি থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়ে কাঁঠালবাড়ী ঘাট থেকে ফেরি ‘ফরিদপুরে’ ওঠেন। ফেরিটি বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটের সময় শিমুলিয়া ভিআইপি ফেরিঘাটে আসে। এ সময় ঘাটে ভেড়ানো ছিল ফেরি ক্যামেলিয়া। এই ফেরিতে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ নদী পাড় হয়ে দক্ষিণবঙ্গে যাবেন। তাই ফেরিটি তাঁর আগমনের অপেক্ষায় ছিল। সন্ধ্যা ৬টার দিকে ধর্মপ্রতিমন্ত্রীর গাড়িটি ক্যামেলিয়ায় উঠলেও তাঁর বহরের দুটি গাড়ি রাস্তায় থেকে যাওয়ায় ফেরিটি ছাড়তে বিলম্ব হচ্ছিল। এদিকে কাঁঠালবাড়ী থেকে ছেড়ে আসা ফেরি ফরিদুপর তখনো নদীতে ভাসছে। কর্তৃপক্ষ ক্যামেলিয়া ছেড়ে গেলেই ফরিদপুরকে ভিআইপি ফেরি ঘাটে নোঙর করানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ইস্টওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের পিএবিএক্স ইনচার্জ মো. ইব্রাহিম ফেরির চালক ও অন্যদের সঙ্গে কথা বলে জানান। অথচ মাত্র ২ মিনিটের দূরত্বে রয়েছে ৩নং ও ২নং ফেরি ঘাট। কর্তৃপক্ষ ইচ্ছে করলেই ফরিদপুর ফেরিটিকে ওই দুটির যেকোনো একটি ঘাটে নোঙর করাতে পারত। কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তের কারণে ফরিদপুরের যাত্রীরা দুর্ভোগের শিকার হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিমুলিয়া ঘাটে প্রায়ই ভিআইপি যাত্রীদের জন্য ফেরি বসিয়ে রাখা হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কোনো কোনো দিন একাধিক ভিআইপির জন্য ভিন্ন ভিন্ন ফেরি বসিয়ে রাখতে হয়। এতে ঘাটে দেখা দেয় ফেরি সংকট। আর এতে ফেরি পারাপারের জন্য সাধারণ যানবাহনের লম্বা লাইন পড়ে।

জানা গেছে এ নিয়ে বিরক্ত বিআইডাব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষও। তবে ভয়ে কেউ মুখ খোলে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআইডাব্লিউটিসির এক ঘাট কর্মকর্তা বলেন, ‘মাঝে মধ্যেই কুয়াশার কারণে কয়েক ঘণ্টা করে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকছে। তারপর ভিআইপিদের জন্য ফেরি বসিয়ে রাখতে হয়। ফেরি ঘাটের রাস্তাগুলো ভিআইপিদের জন্য খোলা রাখতে গিয়ে ঘাটে যানজট আরো বেড়ে যায়। তাই আমরা চাইলেও যাত্রীদের সঠিক সেবা দিতে পারি না।’

‘ফরিদপুর ফেরির’ দুর্ভোগের ব্যাপারে প্রশ্নের জবাবে শিমুলিয়া ঘাটের এজিএম সৈয়দ বরকতউল্লাহ বলেন, ‘আমি সারা দিনই ঘাটে ছিলাম। কিন্তু এ রকম বিষয় আমার জানা নেই। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি, এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে কি না।’

লৌহজং থানার ওসি মনির হোসেন জানান, ১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাবেন টুঙ্গিপাড়ায়। তাই  প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকলের লোকজন ছুটছেন টুঙ্গিপাড়ায়।

মন্তব্য