kalerkantho

মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় শেষ

এবার চট্টগ্রাম নগরে নতুন খাল খনন

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

১৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



২৪ বছর আগে প্রণীত ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যানে (মহাপরিকল্পনা) চট্টগ্রাম মহানগরে তিনটি নতুন খাল খননের প্রস্তাব ছিল। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সেই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় তিন বছর আগে পেরিয়ে গেলেও এ পর্যন্ত একটি খালও খনন করা হয়নি। অবশেষে নতুন প্রস্তাবের আলোকে নতুন একটি খাল খনন শুরু করতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)।

নগরের বহদ্দারহাট বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত ২ দশমিক ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৬৫ ফুট চওড়া নতুন এই খাল খননে ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ২৫৬ কোটি ১৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। খালের দুই পাশে প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ করা হবে। উভয় দিকে থাকবে ২০ ফুট করে সড়ক এবং ছয় ফুট করে ওয়াকওয়ে।

চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন জানান, আগামী বছরের ৩০ জুনের মধ্যে নতুন এই খাল খনন প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে। খাল খনন কার্যক্রম শেষ হলে নগরের বড় একটি অংশের মানুষ জলাবদ্ধতার কবল থেকে দীর্ঘদিন পর মুক্তি পাবে। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন জমি ও স্থাপনা মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করছি।’ 

সিটি মেয়র জানান, খাল খননের সংশোধিত প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্প যেভাবে একনেকে অনুমোদিত হয়েছে, সেভাবেই খনন করা হবে। খাল খনন করতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা যাতে তাদের টাকা যথাযথভাবে দ্রুত বুঝে পায়, সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।

চসিকের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রথম দফায় আমরা সরকার থেকে ৬৩ কোটি টাকা পেয়েছি। এর মধ্যে ৬০ কোটি টাকা জেলা প্রশাসনকে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করার জন্য আরো অর্থ বরাদ্দ চেয়ে আমরা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। চলতি বছরের জুনের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ শেষ হলে পরবর্তী এক বছরের মধ্যে খাল খনন সম্ভব। প্রকল্পে ৭৫ শতাংশ সরকার এবং ২৫ শতাংশ অর্থ জোগান দেবে চসিক।’

গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে করপোরেশনের কে বি আবদুচ সাত্তার মিলনায়তনে নতুন খাল খনন প্রকল্পের অ্যালাইনমেন্টের পূর্ব ষোলশহর এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন সিটি মেয়র।

এক প্রশ্নের জবাবে আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ১৯৯৫ সালের ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যানের অনুসরণে প্রকল্পের সম্পূর্ণ জমি অধিগ্রহণপূর্বক নতুন প্রস্তাবের আলোকে এই খাল খনন করা হবে। এ জন্য ২৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকরা তিন গুণ ক্ষতিপূরণ পাবে।

চসিক সূত্রে জানা যায়, সিডিএ ১৯৯৫ সালে যে ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করেছিল, তাতে তিনটি খাল নতুন খননের প্রস্তাব ছিল। এর মধ্যে একটি বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত। অপর দুটি নয়াখাল থেকে শীতলঝর্ণা এবং মুরাদপুর থেকে বহদ্দারহাট। পরবর্তী ২০ বছরের মধ্যে ওই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা থাকলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। ২০১৪ সালে নগরের বহদ্দারহাটসহ আশপাশের প্রধান সড়ক-উপসড়ক ও এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে সরকার বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত একটি নতুন খাল খননের জন্য ৩২৬ কোটি ৮৪ লাখ ৮১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। কিন্তু ওই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি। অবশেষে ২০১৫ সালে মেয়র হওয়ার পর থেকে নাছির প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন।

দীর্ঘ দুই যুগ পর নগরে নতুন একটি খাল খনন শুরু হতে যাওয়ায় আশার সঞ্চার হয়েছে মানুষের মনে। এটি বাস্তবায়িত হলে নগরের মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, পূর্ব ষোলশহর, পূর্ব বাকলিয়া, পশ্চিম বাকলিয়া, কাপাসগোলা, বাদুরতলাসহ আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা থাকবে না।

মন্তব্য