kalerkantho

উচ্ছেদের মালপত্র নিলামে বিক্রি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উচ্ছেদের মালপত্র নিলামে বিক্রি

তুরাগ নদের কুচকুচে কালো পানি পরিশুদ্ধ করা যাচ্ছে না আপাতত। বাড়ানো যাচ্ছে না প্রবাহ। তবে দুই তীরে দখলের কালো থাবা অনেকটাই নিশ্চিহ্ন হচ্ছে উচ্ছেদ অভিযানে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ) এ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে অবিরাম। গতকাল বৃহস্পতিবারও তুরাগের তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে চলেছে অভিযান। বুলডোজার, ক্রেন দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে দখলি জমিতে নির্মাণ করা স্থাপনা। তাত্ক্ষণিক নিলামে বিক্রি করা হয়েছে ২৫ লাখ টাকার কয়লাসহ অবৈধভাবে মজুদ করা মালামাল। অভিযানে ভাঙা পড়েছে শাহ সিমেন্ট কারখানার সীমানাপ্রাচীর।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, গতকাল ভাঙা হয়েছে ৫৫টি স্থাপনা। অভিযানে ২০টি সীমানাপ্রাচীর, ১৫টি জেটি, ২০টি টিনের ঘরসহ অবৈধ মালামাল বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। দিনভর অভিযানে তুরাগতীরের আট একর জায়গা মুক্ত হয়েছে।

তুরাগ নদের ঢাকা উদ্যান অংশ থেকে সকালে এই অভিযান শুরু হয়। আমিনবাজার গাবতলী সেতুর নিচ পর্যন্ত অভিযানকালে মেলে প্রচুর অবৈধ স্থাপনা। দূষিত পানি প্রবাহের মাঝে বিশেষ কৌশলে এগিয়ে চলে বিআইডাব্লিউটিএর জলযানসহ টিম। বেশ কয়েকটি অবৈধ ঘাট থেকে তখন কয়লা, বালু, পাথর বোঝাই করে অনেক নৌযান উচ্ছেদকারীদের থেকে দূরত্ব বজায় রেখে সটকে পড়ে। তুরাগের দুই তীর দখল করে বসতবাড়ি, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণের চেষ্টা দেখা যায় বিভিন্ন স্থানে। মালামাল রেখে তীর দখলের পাশাপাশি গাছপালা লাগিয়ে কয়েক স্থানে আবাসিক এলাকার রূপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

বিআইডাব্লিউটিএর দল বুলডোজার ও ক্রেন নিয়ে ঘুরে ঘুরে দিনভর কার্যক্রম চালায়। আবুল খায়ের গ্রুপের শাহ সিমেন্ট কারখানার সীমানাপ্রাচীর দেখা যায় নদের সীমানায়। ক্রেন দিয়ে সেগুলো ভেঙে ও মালামাল সরিয়ে অগ্রসর হতে থাকে অভিযানকারী দল। তখন নদের তীরে উত্সুক জনতার ভিড়। কিছুদূর যেতেই সামনে পড়ে বাঁশ নিয়ে বিশেষ কায়দায় নদের ভেতরেই স্থাপনা তৈরির চেষ্টা। সেগুলো ভেঙে ফেলা হয়। দুপুরে গাবতলী এলাকায় মেলে কয়লা, চুনাপাথর, বালু ও ইটের স্তূপ। ম্যাজিস্ট্রেটসহ পুরো দল তীরে নেমে সেসব মালামাল জব্দ করে। রাজ গ্রুপ নামে একটি প্রতিষ্ঠান অবৈধ এ মজুদদারিতে যুক্ত বলে উপস্থিত লোকজন জানায়। ভয়ে মালামালের দাবিদাররা উপস্থিত হয়নি। এ অবস্থায় সেখানে উন্মুক্ত নিলামের আয়োজন করা হয়। সাতজন দরদাতা অংশ নেন নিলামে। দেলোয়ার হোসেন নামের এক ব্যবসায়ী ভ্যাটসহ ৩০ লাখ টাকায় মালামাল নিয়ে নেন। নিলামে তোলা মালামালের মধ্যে ছিল কয়লা, চুনাপাথর, ইট ও বালু।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়া যথাযথ অনুসরণ করে নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। অবৈধ কারবারিরা নদীতীরে এসব মালামাল রেখে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করছে। তাদের নোটিশ দেওয়া হলেও মালামাল সরায়নি। বুড়িগঙ্গা ও তুরাগতীরের দখলি জায়গা উদ্ধারে যে অভিযান চলছে, তা অব্যাহত থাকবে। নদীতীর অবমুক্ত করতে যা যা করা দরকার, করা হবে।’

বিআইডাব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, ‘নদীতীর দখলে রীতিমতো মহোৎসব চলছে। নদীর সম্পদ ফিরিয়ে দিতে হবে জাতীয় স্বার্থে। তীর অবমুক্তের পর নদীকে ড্রেজিংয়ের আওতায় এনে সচল করতে হবে। এ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে উচ্ছেদ অভিযান চলছে।’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, তুরাগতীরে কয়লার মজুদ রেখে ব্যবসা করায় ব্যাপক দূষণ হচ্ছে। বালু ও চুনাপাথর ব্যবসার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে তুরাগতীর। কেউ বা ইটভাটা নির্মাণ করেছে তুরাগপারে। তারা মালামাল রাখতে ক্রমেই জায়গা দখল করছে। অস্থায়ী কারবারের পাশাপাশি স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে নদী দখল ও ভরাটের চেষ্টা চলে। উচ্ছেদ কার্যক্রমের পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য