kalerkantho

এবার শামীমার সন্তানকে বাংলাদেশি বানানোর চেষ্টা!

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



এবার শামীমার সন্তানকে বাংলাদেশি বানানোর চেষ্টা!

যুক্তরাজ্য ছেড়ে সিরিয়ায় আইএসে যোগ দেওয়া শামীমা বেগমের সন্তানকে এবার বাংলাদেশি বানানোর চেষ্টা করছে বিভিন্ন মহল। ব্রিটিশ সরকার শামীমার নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হওয়ায় বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পেতে পারেন বলে বিভিন্ন মহল থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়। বাংলাদেশ সরকার তা নাকচ করে দেওয়ার পরও হাল ছাড়েনি তারা। এমনকি শামীমার শিশুসন্তানও বাংলাদেশি নাগরিকত্ব পেতে পারে—এমন প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

বিতর্কিত ব্রিটিশ আইনজীবী লর্ড কারলাইলের বরাত দিয়ে বিবিসি বাংলা গতকাল শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানায়, শামীমার সন্তানও বাংলাদেশ বা নেদারল্যান্ডসের নাগরিকত্ব পেতে পারে। কারণ শামীমার স্বামী একজন ধর্মান্তরিত ডাচ নাগরিক।

ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্টই জানিয়েছে, শামীমা বাংলাদেশের নাগরিক নন। জন্মসূত্রে তিনি একজন ব্রিটিশ। পৈতৃক সূত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র থাকলেও তিনি কখনো বাংলাদেশে আসেননি। কখনো তিনি দ্বৈত নাগরিকত্ব পেতে আবেদনও করেননি। তাই তাঁকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে শামীমার নাগরিকত্ব নিয়ে আইনি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সর্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে তার নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করা যায় না। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তরের যুক্তি, ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল হলেও শামীমা বেগম রাষ্ট্রহীন হবেন না। ব্রিটেন বারবার বাংলাদেশে শামীমার নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারকে ইঙ্গিত করেছে।

বিবিসি বলছে, বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বিদেশে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশি মা-বাবার সন্তানরা ২১ বছর পর্যন্ত বাংলাদেশি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারে। এ ক্ষেত্রে ১৯ বছর বয়সী শামীমার আরো দুই বছর সময় আছে।

ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশে দণ্ডিত বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছে। বাংলাদেশের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও যুক্তরাজ্য তাদের ফেরত পাঠাচ্ছে না। এ দেশে মৃত্যুদণ্ড ব্যবস্থা চালু আছে—এমন যুক্তিও দেখায় তারা। বাংলাদেশেও সন্ত্রাসী তৎপরতার জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা আছে। শামীমা যুক্তরাজ্যে থেকেই সন্ত্রাসবাদে জড়িয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত তার নিজের নাগরিককে কেন বাংলাদেশে ঠেলে দিতে চাচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়।

মন্তব্য