kalerkantho

চকবাজার ট্র্যাজেডি

চাঁদপুরের একজন এখনো নিখোঁজ, দুজনের দাফন

চাঁদপুর প্রতিনিধি   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



চাঁদপুরের একজন এখনো নিখোঁজ, দুজনের দাফন

কী ঘটেছিল বুধবার রাতে—তা স্বচক্ষে দেখতে গতকাল জুমার নামাজের পর চুড়িহাট্টার ঘটনাস্থলে ভিড় করে এলাকাবাসী। ছবি : কালের কণ্ঠ

চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের দুজন চাঁদপুরের বাসিন্দা। তাঁরা হলেন হাজীগঞ্জের আহম্মদপুর গ্রামের শামছুল হক (৭০) এবং পাশের মোহাম্মদপুর গ্রামের সিদ্দিকুর রহমান (২৮)। গতকাল তাঁদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে ইসমাইল হোসেন (৭২) নামে চাঁদপুরের আরেক বাসিন্দা অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, অগ্নিকাণ্ডে তিনিও অঙ্গার হয়ে গেছেন।

এই তিনজনই ছিলেন চকবাজারের ব্যবসায়ী। তাঁদের মধ্যে শামছুল হক ডেকোরেটর ব্যবসায়ী ছিলেন। ইসমাইল হোসেনের ছিল পলিথিনের কারখানা। আর সিদ্দিকুর রহমানের (২৮) মোবাইল ফোন ও কম্পিউটারের দোকান ছিল।

ফরিদগঞ্জ পৌরসভার রুদ্রগাঁও গ্রামের শামছুল হক এলাকায় বেশ দানশীল ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় তিনিসহ আরো পাঁচজন তাঁর ডেকোরেটরের দোকানে অবস্থান করছিলেন; সবাই মারা গেছেন। শামছুল হকের ছেলে মাহবুবুর রহমান জানান, তাঁর বাবা প্রতিদিন একটু দেরি করেই বাসায় ফিরতেন।

রুদ্রগাঁও এলাকার কামরুল ইসলাম সাউদ বলেন, ‘গ্রামের মসজিদ, মাদরাসা, ঈদগাহ প্রতিষ্ঠা করে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছিলেন শামছুল হক। অথচ তিনি তেমন কোনো বড়লোক ছিলেন না। এই শুক্রবারে তাঁর গ্রামে আসার কথা ছিল। কিন্তু ফিরলেন লাশ হয়ে।’

মোহাম্মদপুরের সিদ্দিকুর রহমান কয়েক বছর আগে বিদেশ থেকে ফিরে চুরিহাট্টায় মোবাইল ফোন ও কম্পিউটারের ব্যবসা শুরু করেন। তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন তিনি। ছেলের এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না বাবা আবুল হোসেন। তাঁর আক্ষেপ, ‘ছেলের সঙ্গে গোটা সংসারও শেষ হয়ে গেল।’

অন্যদিকে হাজীগঞ্জ উপজেলার আহম্মদপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেন অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে গতকাল শুক্রবার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিখোঁজ ছিলেন। ছোট ভাই মো. ইউনুস উল্লাহ জানান, এক ছেলে ও দুই মেয়ের বাবা ইসমাইল হোসেন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি রাজধানীতে থাকতেন।

মন্তব্য