kalerkantho


চলচ্চিত্র সংসদের প্রাণপুরুষ মুহম্মদ খসরুর আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



চলচ্চিত্র সংসদের প্রাণপুরুষ মুহম্মদ খসরুর আর নেই

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের প্রাণপুরুষ মুহম্মদ খসরু আর নেই। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল সত্তর বছরের বেশি।

ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক বেলায়াত হোসেন মামুন সাংবাদিকদের জানান, শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বারডেম হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন খসরু। তিনি বার্ধক্যজনিত নানা রোগেও ভুগছিলেন।

মুহম্মদ খসরুর বাবা ছিলেন ভারতের হুগলী পাটকলের কর্মকর্তা। সেখানেই তাঁর জন্ম। তাঁদের পরিবার ১৯৫০-এর দশকে ঢাকায় চলে আসে। বসবাস শুরু করেন কেরানীগঞ্জের রুহিতপুরে। সংসার না করা এই লোকটি আমৃত্যু সেখানেই কাটিয়েছেন।

পটুয়া কামরুল হাসানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থার (বিসিক) নকশাকেন্দ্র চালু হলে সেখানে আলোকচিত্রী হিসেবে পেশাজীবন শুরু করেন মুহম্মদ খসরু। ১৯৬৩ সালে খসরুসহ আরো কয়েকজনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘পাকিস্তান চলচ্চিত্র সংসদ’। তাঁরা সেই সময় বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে দেখিয়েছেন ইউরোপ, আমেরিকা ও আফ্রিকার নানা ভাষার চলচ্চিত্র।

১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ প্রতিষ্ঠার সময় খসরু ছিলেন উদ্যোক্তাদের একজন। তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন। খসরু বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সংসদের তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠা করেন ফিল্ম স্টাডি সেন্টার।

চলচ্চিত্রবিষয়ক সাময়িকী ধ্রুপদী, চলচ্চিত্রপত্র, ক্যামেরা যখন রাইফেলসহ বিভিন্ন প্রকাশনার সম্পাদনা করেছেন মুহম্মদ খসরু। ১৯৭৫ সালে রাজেন তরফদার পরিচালিত ‘পালঙ্ক’ সিনেমায় সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছিলেন তিনি। পরে নিজেও সিনেমা বানাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু অর্থাভাবে তা আর হয়নি।

সর্বশেষ হাসান আজিজুল হকের ‘নামহীন গোত্রহীন’ অবলম্বনে একটি চিত্রনাট্য তৈরি করে বেশ কিছুদিন ঘুরেও প্রযোজক জোগাড় করতে পারেননি খসরু। এমনকি দুই দফা আবেদন করেও সরকারি অনুদান পাননি।

বাংলাদেশে চলচ্চিত্র সংস্কৃতির বিকাশে অবদানের জন্য মুহম্মদ খসরু পেয়েছেন হীরালাল সেন আজীবন সম্মাননা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের আজীবন সম্মাননাসহ বেশ কিছু পুরস্কার।



মন্তব্য