kalerkantho


বেসরকারি গুদামে সরকারি ওষুধ, মিষ্টির প্যাকেটে পাচারের নমুনা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



বেসরকারি গুদামে সরকারি ওষুধ, মিষ্টির প্যাকেটে পাচারের নমুনা

মিষ্টির প্যাকেটে সরকারি হাসপাতালের ওষুধ পাওয়া গেছে প্রাইভেট একটি ফার্মেসির গুদামে, যা উদ্ধার করেছেন র‌্যাব-২-এর বিশেষ টিম ও ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল সোমবার দুপুর থেকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনের একটি ভবনে ওই ওষুধ উদ্ধারে অভিযান চলে। ওষুধের সঙ্গে জব্দ করা হয়েছে সরকারি হাসপাতাল থেকে পাচার করা নানা সার্জিক্যাল ডিভাইসও।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম। গোপন খবরের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয় বলে কালের কণ্ঠকে জানান তিনি। বলেন, উদ্ধার হওয়া ওষুধগুলো কয়েকটি সরকারি হাসপাতাল থেকে পাচার হয়। এর মধ্যে জাতীয় অর্থপেডিকস হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নিটরের ওষুধই বেশি বলেই প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। রয়েছে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, হৃদরোগ হাসপাতালের ওষুধও। এসব ওষুধ বাইরে বিক্রি নিষিদ্ধ।

ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম জানান, অভিযান শেষে রয়েল মেডিক্যাল, নরসিংদী ফার্মা ও হামিদা ফার্মা নামের তিনটি ফার্মেসি, তিনটি গোডাউন ও একটি বাড়ি সিলগালা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুজনকে। এর মধ্যে রয়েল মেডিক্যালের মালিকসহ অন্যদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। সিলগালা করা বাড়িটিও রয়েল মেডিক্যালের মালিকের।

তবে রাত ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঘটনাস্থলের সামনের সরকারি হাসপাতালগুলোর কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তারা এ ঘটনার কথা জানে না বলে কালের কণ্ঠকে জানিয়েছে।

সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘অভিযানের বিষয়টি আমি শুনিনি। আর আমার হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধ বাইরে পাচারের সুযোগ থাকার কথা নয়। অগ্নিকাণ্ডের দিনে কিছু হয়ে থাকলে সেটিও এখনই বোঝার উপায় নেই।’

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আফজালুর রহমান বলেন, ‘স্টোর রুম এতটাই নিরাপত্তাবেষ্টিত যে সেখান থেকে কোনো ওষুধ পাচারের সুযোগ নেই। তার পরও যদি হয়ে থাকে, সেটা খুবই ভাবনার বিষয়।’

জাতীয় অর্থপেডিকস হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নিটরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল গণি মোল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার এই হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধ পাচারের সুযোগ নেই।’



মন্তব্য