kalerkantho


আসছে ব্লাস্টরোগ প্রতিরোধী গমের নতুন জাত

বাকৃবি প্রতিনিধি   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



আসছে ব্লাস্টরোগ প্রতিরোধী গমের নতুন জাত

গমের সবচেয়ে ভয়ংকর রোগের নাম ব্লাস্ট। আর এই ব্লাস্টরোগ প্রতিরোধী গমের নতুন জাত উদ্ভাবনে সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন এক গবেষক। বীজ রেডিয়েশন প্রয়োগের মাধ্যমে এ গবেষণা সফল হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ওই গবেষণা প্রকল্পের প্রধান ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. বাহাদুর মিঞা। গতকাল সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিনা) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, বীজ রেডিয়েশন মাধ্যমে পাওয়া গাছগুলো ব্লাস্ট আক্রমণ করেনি। এগুলো গবেষণাগারে আরো পর্যবেক্ষণ করে আগামী দুই-এক বছরের মধ্যে ব্লাস্ট প্রতিরোধ জাত বাজারজাত করা যাবে। এতে কৃষকের পাশাপাশি দেশের খাদ্য উৎপাদন বাড়বে। জাতটি ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারলে বিদেশ থেকে গম আমদানি বন্ধ করা সম্ভব বলেও জানান ওই গবেষক।

ড. বাহাদুর জানান, গমের ব্লাস্ট একটি ক্ষতিকর ছত্রাকজনিত রোগ। ছত্রাকটির বৈজ্ঞানিক নাম গধমহধঢ়ড়ত্ঃযব ড়ৎুুধব। বাংলাদেশে প্রথম ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে যশোর, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, বরিশাল ও ভোলার জেলায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। যা মোট গম আবাদি জমির প্রায় ৩ শতাংশ। এ রোগের কারণে আক্রান্ত গমের ফলন শতকরা ২৫ থেকে ৩০ ভাগ কমে যায়। ক্ষেত্রবিশেষে কোনো কোনো ক্ষেতের ফসল প্রায় সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়।

কৃষি গবেষক ড. বাহাদুর আরো জানান, ব্লাস্ট রোগের কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে আক্রান্ত গম ক্ষেতের কোনো কোনো স্থানে শীষ সাদা হয়ে যায়। অনুকূল আবহাওয়ায় তা দ্রুত পুরো ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়ে। গমের কিছু শীষের উপরিভাগ শুকিয়ে সাদাটে বর্ণ ধারণ করে যা সহজেই নিম্নভাগের সবুজ ও সুস্থ অংশ থেকে আলাদা করা যায়। আবার কোনো কোনো শীষের প্রায় সম্পূর্ণ অংশই শুকিয়ে সাদাটে হয়ে যায়। এটি গমের ব্লাস্ট রোগের আদর্শ লক্ষণ। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) মহাপরিচালক হোসনে আরা বেগম বলেন, ‘গমের ব্লাস্ট প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবনে আমরা অনেক আগে থেকেই কাজ করে যাচ্ছি। শিগগিরই জাতটি রিলিজ করতে পারব বলে আশা করছি।’



মন্তব্য