kalerkantho


আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বদি!

এস এম রানা, কক্সবাজার থেকে   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বদি!

দেশের শীর্ষ ইয়াবা কারবারিদের নিয়ে তৈরি করা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকার ১ নম্বরে থাকা সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে তিনি আত্মসমর্পণের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন একই তালিকার ৬ নম্বর ক্রমিকে নাম থাকা টেকনাফ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আহমদের কাছে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের সাবেক এই সংসদ সদস্যের মুখে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্তের কথা শুনে বিস্ময়ে মুখ গোমড়া করে ফেলেন উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদ। মুখের ভাষাতেই তিনি নিজের রাজনৈতিক গুরু আবদুর রহমান বদিকে অনিচ্ছার কথা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন।

আওয়ামী লীগের সাবেক এই সংসদ সদস্যের নাম ইয়াবা পাচারকারীদের তালিকার ১ নম্বরে উঠে আসার পর গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন পাননি। তবে তাঁর স্ত্রী শাহিন আক্তার দলীয় মনোনয়ন পেয়ে জয়ী হন।

ইয়াবা পাচারকারীদের তালিকায় নাম ওঠা, সরকারি কর্মকর্তাদের মারধরসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে সংসদ সদস্য পদ হারানোর পর আবদুর রহমান বদি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন বলে জেনেছে কক্সবাজার জেলা পুলিশ। এরই মধ্যে তিনি দুর্নাম ঘোচানোর মিশন হিসেবে ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়ায় কৌশলে ভূমিকা রাখছিলেন। নিজের ভাই ও স্বজনসহ অন্যদের আত্মসমর্পণের পরামর্শ দেন তিনি। আত্মসমর্পণপ্রক্রিয়া যখন চূড়ান্ত হয়ে আসে, তখন তিনি ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে সাড়া পাননি। ফলে তিনি মানসিকভাবে আরো বেশি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন বলে জেনেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

পুলিশ কর্মকর্তারা মনে করেন, আবদুর রহমান বদির নাম তালিকার ১ নম্বরে রয়েছে। তিনি যদি আত্মসমর্পণ না করে অনুষ্ঠানের মঞ্চে বসেন বা তদারকি করেন, তাহলে পুরো প্রক্রিয়াই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। এই কারণেই পুলিশ বদিকে অনুষ্ঠানে থাকার সুযোগ দিতে চায়নি।

এরই মধ্যে গত ৮ ফেব্রুয়ারি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জাফর আহমদের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় তিনি আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে জাফর আহমদকেও আত্মসমর্পণের অনুরোধ জানান। এ সময় বদি স্বগতোক্তির সুরে বলেন, আর পারছি না। সব কিছুই গেল। এবার আমার বিরুদ্ধেই তদন্ত হোক। সত্যতা পেলে বিচার হোক।

রাজনৈতিক গুরুর মুখে এমন কথা শুনে বিস্মিত হন জাফর আহমদ। বদির কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গেই মুখ বেজার করে ফেলেন। পরে তিনি আত্মসমর্পণের বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করেন।

বদি ও জাফর আহমদের এই কথোপকথনের সময় সেখানে আরেক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। এরপর কথাটি পৌঁছে যায় পুলিশের কাছে। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা শুরুতে বদির আত্মসমর্পণের ইচ্ছাকে সাধুবাদও জানিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বদি আত্মসমর্পণ করেননি। 

কক্সবাজার জেলা পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বদির এই আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্তের তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করলেও এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাঁরা বলেন, শোনা গিয়েছিল যে ৮ ফেব্রুয়ারি উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদকে বদি আত্মসমর্পনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পরে দুজনের কেউই আত্মসমর্পণ করেননি। কেন করেননি সেটা তাঁরাই ভালো বলতে পারবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আবদুর রহমান বদি আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এমন কিছু আমি জানি না। আমার সঙ্গে আলাপও হয়নি।’



মন্তব্য