kalerkantho


নিজ স্কুল মাঠে শেষ জানাজা

মৌড়াইলে সমাহিত কবি আল মাহমুদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



মৌড়াইলে সমাহিত কবি আল মাহমুদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যে স্কুলে তিনি লেখাপড়া করেছেন সেই স্কুল মাঠে সর্বশেষ জানাজা শেষে নিজের গ্রাম পৌর এলাকার মৌড়াইলে সমাহিত করা হয়েছে কবি আল মাহমুদকে। গতকাল রবিবার দুপুরে নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তৃতীয় জানাজা শেষে মৌড়াইল কবরস্থানে তাঁর লাশ দাফন করা হয়।

কবি আল মাহমুদকে শ্রদ্ধা জানাতে নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জড়ো হয়। তাদের অনেকে ফুল দিয়ে কবির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে। শনিবার রাতে তাঁর মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে সেখানে ছুটে যায় এলাকার মানুষ।

কবির জানাজায় ইমামতি করেন মোল্লাবাড়ি মসজিদের ইমাম মাওলানা আশেক উল্লাহ ভূইয়া। এর আগে সকাল ১১টায় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কবির মরদেহ বিদ্যালয় মাঠে নেওয়া হলে সেখানে সর্বস্তরের লোকজন শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন কবির ছেলে মীর মো. মনিরসহ বেশ কয়েকজন। তাঁরা বলেন, ‘আল মাহমুদ ছিলেন আলোকবর্তিকা। ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর গর্ব। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ একজন অভিভাবককে হারাল।’ বক্তব্য দেন কবি আবিদ আজম, জেলা বিএনপি সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, কবির ভাগিনা কর্নেল (অব.) মো. শাকিল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি খ. আ. ম. রশিদুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খোকন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া গবেষক মুহম্মদ মুসা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মঞ্জুরুল আলম।

জেলা আইনজীবী সমিতি, জেলা বিএনপি, জেলা যুবদল, জেলা ছাত্রদল, জেলা উন্নয়ন পরিষদ, মৌড়াইল গ্রামবাসী, বিডি ক্লিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ইউনেস্কো ক্লাব ব্রাহ্মণবাড়িয়া, দৈনিক সমতট বার্তার পক্ষ থেকে কবির কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আল মাহমুদ প্রায় এক যুগ সর্বশেষ তাঁর গ্রামের বাড়িতে রাত্রি যাপন করেন। এরপর মাঝে মাঝে এলেও থাকতেন না। তিনি অসুস্থ ছিলেন আবার অনেকটা মনের কষ্ট থেকেই নিজ গ্রামে আসা কমিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর ভাতিজা মীর রব্বান হোসেন জানিয়েছেন, বাড়ির চৌচালা ঘর ভেঙে দালান করার কষ্টে তিনি খুব কম আসতেন।

১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই মৌড়াইলের মোল্লাবাড়িতে আল মাহমুদ জন্মগ্রহণ করেন। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়। গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।



মন্তব্য