kalerkantho

প্রধান শিক্ষকের পান-সিগারেটে শেষ স্কুলের লাখ টাকা!

মাগুরার মহম্মদপুর আরএসকেএইচ মাধ্যমিক বিদ্যালয়

মাগুরা প্রতিনিধি   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাগুরার মহম্মদপুর সরকারি আরএসকেএইচ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক নাসিরুল ইসলাম ‘নিয়োগ বাণিজ্যের’ মাধ্যমে কয়েক লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বিদ্যালয়ের জমি, স্থাপনা এবং ভবন ভাড়া থেকে প্রাপ্ত অর্থও ‘এদিক-সেদিক’ করেছেন তিনি। এমনকি বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে তিনি পান-সিগারেট খেয়েই খরচ করেছেন লাখ টাকা।

এরই মধ্যে এসব অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফুর রহমান। তবে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক দাবি করেছেন, তিনি কোনো অনিয়ম করেননি।

মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী বিদ্যালয়টির ব্যাংক হিসাব পদাধিকার বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং প্রধান শিক্ষকের যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হওয়ার কথা। কিন্তু নাসিরুল ইসলাম একক নামে ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করে আসছিলেন। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র হাতে পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফুর রহমান বিদ্যালয়ের আর্থিক লেনদেনে নানা অনিয়ম দেখতে পান। যার পরিপ্রেক্ষিতে পদাধিকার বলে সভাপতি হিসেবে তিনি বিদ্যালয়টির আয়-ব্যয়সংক্রান্ত নথিপথ সংগ্রহ করেছেন।

সুত্রটি জানায়, বিদ্যালয়ের একাধিক ব্যাংক হিসাব রয়েছে। এগুলোর মধ্যে একটি ব্যাংক হিসাব যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, গত এক বছরে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের পাশের একটি দোকান থেকে এক লাখ ১৬ হাজার ৩৭ টাকার মালামাল কিনেছেন। এই অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে। ক্রয়কৃত মালামালের মধ্যে তিনি ৭২ হাজার ২০ টাকার সিগারেট, ২১ হাজার পাঁচ টাকার পান এবং এক হাজার ৪৮২ টাকার বিস্কুট কিনেছেন। অথচ শিক্ষা উপকরণ হিসেবে খাতা কিনেছেন ৩৬০ টাকার; আর কলম কিনেছেন ৪৩০ টাকার।

আবুল হোসেনসহ স্কুলের কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, দোকান ভাড়া ও শিক্ষার্থীদের ফিসহ নানা উৎস থেকে বিদ্যালয়ের প্রতিবছর ৫০ লাখ থেকে ৬০ লাখ টাকা আয় হয়। আর এই টাকা নিজের ইচ্ছামতো খরচ করেন প্রধান শিক্ষক। এ ছাড়া তিনি নিজের ভাগ্নে শামীম হোসেন, ছোট বোন শিরিনা খাতুনকে তড়িঘড়ি করে যথাক্রমে সহকারী শিক্ষক ও আয়া পদে নিয়োগ দিয়েছেন। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের জায়গায় মার্কেট স্থাপন, স্কুলের গাছ বিক্রি, টাওয়ার স্থাপনের জন্য মোবাইল ফোন কম্পানির কাছে জায়গা ভাড়া দেওয়া এবং উপবৃত্তির লাখ লাখ টাকার কোনো ন্যায্য হিসাব তিনি দিতে পারবেন না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যালয়ের সব ব্যাংক হিসাব এখনো যাচাই-বাছাই করা হয়নি। তবে বিদ্যালয় তহবিলের মোটা অঙ্কের টাকা প্রধান শিক্ষক ধূমপানের পেছনে ব্যয় করেছেন বলে প্রমাণ মিলেছে। বাকি বিষয়গুলো তদন্ত করতে একাধিক উপকমিটি করা হয়েছে।’

নাসিরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকস্মিক পরিদর্শনে এসে বিদ্যালয়ের নানা নথিপত্র সংগ্রহ করেছেন। এ বিষয়ে আর কিছু জানি না। আমি কোনো দুর্নীতি করিনি।’

মন্তব্য