kalerkantho


অষ্টগ্রাম উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, হাওরাঞ্চল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মানিক কুমার দেবের স্ত্রী লিপি রাণী দেবের (৩৮) রহস্যজনক মৃত্যু ঘটেছে। গত শুক্রবার বিকেলে মানিক কুমার দেবের মধ্য অষ্টগ্রাম মজুমদারপাড়ার বাড়িতে লিপি গুরুতর অসুস্থ হন। বলা হয় লিপি বিষ পানে আত্মহত্যা করেছেন। পরে লিপির পরিবার সাংবাদিকদের কাছে মানিকের বিরুদ্ধে শ্বাসরোধে লিপিকে হত্যার অভিযোগ করেন।

এদিকে শুক্রবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার পুলিশের উপপরিদর্শক আবুল হোসাইন লিপির মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। তিনি জানান, লিপির বাঁ গালে ও কানে চড়ের আঘাতের চি ডিগ্রি রয়েছে। এ ছাড়া গলার দুই পাশে আঙলের ছাপ রয়েছে। গলার মাঝখানে ফোলা। মাথার পেছন দিকেও আঘাতের চি ডিগ্রি পাওয়া গেছে।   

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রানা নূরুস্ শামস্ এ সুরতহাল প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করতে রাজি হচ্ছেন না। যে কারণে লিপির মৃতদেহের ময়নাতদন্তও করা যাচ্ছে না।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে একাধিক সূত্র ও লিপির পরিবার জানায়, হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে ভিন্ন খাতে নিতে একটি মহল তৎপর হয়ে উঠেছে। যে কারণে পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে ডাক্তার স্বাক্ষর করছেন না।   

এলাকাবাসী জানায়, শুক্রবার শেষ বিকেলেই মৃতপ্রায় লিপিকে অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে কিশোরগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে স্থানান্তর করে। কিন্তু উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মানিক স্ত্রীকে কিশোরগঞ্জে না পাঠিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে অবস্থিত শ্বশুরবাড়ি পাঠিয়ে দেন। শ্বশুরবাড়ির লোকেরা মুমূর্ষু লিপিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে মানিক কুমার দেব স্ত্রীকে আত্মীয়দের মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাঠালেও তিনি নিজে অসুস্থ স্ত্রীর সঙ্গে না যাওয়ায় লিপির পরিবারের সন্দেহ হয়। মানিক দেবের পরিবারের সদস্যরা হাসপাতাল থেকে লিপির মৃতদেহ নিয়ে যেতে চাইলে লিপির আত্মীয়রা বাধা দেয়। এমনকি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাটি পুলিশকে অবহিত করে তারা মৃতদেহের ময়নাতদন্তেরও দাবি করে। ফলে দুই দিনেও লিপির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত লিপির মৃতদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালের মর্গেই পড়েছিল। অস্বাভাবিক মৃত্যুর শিকার লিপি রানী দেব চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে জানা গেছে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা সদরের দত্তপাড়ার তুলসি রঞ্জন দেবের মেয়ে।

নিহতের বড় ভাই চন্দন দেব অভিযোগ করে বলেন, মানিক দেব প্রায় সময় পারিবারিক কলহের জের ধরে লিপিকে মারধর করত। শুক্রবার বিকেলে মানিক পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিষ পান করিয়ে লিপিকে হত্যা করেছে। পরে তাঁকে অষ্টগ্রাম থেকে স্পিডবোটের মাধ্যমে এক প্রতিবেশীর মাধ্যমে নাসিরনগর পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় বোন জামাতার বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা করবেন। বুকে পা দিয়ে গলাটিপে তার বোনকে হত্যা করেছে মানিক।



মন্তব্য