kalerkantho


মিয়ানমারের সেনাপ্রধান

নিপীড়নের প্রমাণ নেই, শেখানো কথা বলছে রোহিঙ্গারা

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানোসহ সব ধরনের নিপীড়নের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং। গত বৃহস্পতিবার জাপানের আসাহি শিমবুন পত্রিকাকে দেওয়া নজিরবিহীন এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন চালানোর কোনো প্রমাণ নেই। বাংলাদেশে অবস্থানরত স্বজনদের সঙ্গে বসবাস করতে বা তৃতীয় কোনো দেশে যেতেই তারা মিয়ানমার ছেড়েছে এবং কারো শেখানো কথা অনুযায়ী তারা মিয়ানমার বাহিনীর বিরুদ্ধে একসুরে অভিযোগ করছে। এর মাধ্যমে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারকে অসম্মান করছে বলেই তিনি মনে করছেন।

২০১৭ সালের আগস্ট মাসে নতুন করে নিধনযজ্ঞ শুরুর পর এ পর্যন্ত সাত লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘের স্বাধীন সত্যানুসন্ধানী কমিশন মিয়ানমারের সেনাপ্রধানসহ শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের জোরালো অভিযোগ তোলার পর তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণে এরই মধ্যে একটি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতও (আইসিসি) প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে গত শুক্রবার জাপানের পত্রিকায় প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান রোহিঙ্গা নিপীড়নের অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, ‘অকাট্য প্রমাণ ছাড়া সমালোচনা যেকোনো রাষ্ট্রের সম্মান হানি করে।’

নিপীড়নের অভিযোগ প্রসঙ্গে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান বলেন, ‘তারা (রোহিঙ্গারা) সবাই একই কথা বলছে। আমার মনে হয়, এটি তাদের কেউ শিখিয়ে দিয়েছে।’

নেদারল্যান্ডসের হেগভিত্তিক আইসিসি মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসার কারণ অনুসন্ধানে যে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার আইসিসির সদস্য নয়। মিয়ানমারের সার্বভৌমত্বকে হুমকিতে ফেলে এমন কোনো উদ্যোগ আমরা মেনে নেব না।’

মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে পশ্চিমা অনেক দেশ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে রোহিঙ্গাবিরোধী বিদ্বেষ ও গণহত্যায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ মিয়ানমার সেনাপ্রধানের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে। ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে মিয়ানমার বাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নির্মূল অভিযান শুরুর পর মিয়ানমারের সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং বলেছিলেন, তাঁর বাহিনী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অসমাপ্ত কাজটিই করছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পুরো মিয়ানমার জাপানিদের পক্ষ নিলেও রোহিঙ্গারা ছিল ব্রিটিশ বাহিনীর পক্ষে। সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং তাঁর ওই বক্তব্যের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের এখনো শত্রু হিসেবে বিবেচনার ইঙ্গিত করেছেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র গত শুক্রবার রাতে এক বিবৃতিতে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের চাহিদা মেটাতে এ বছর ছয় কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ৫০০ কোটি টাকা) সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের ফেরার পরিবেশ সৃষ্টি করতে মিয়ানমারকে তাগিদ দিয়েছে।



মন্তব্য